জাতিসংঘ শিশু তহবিলের (ইউনিসেফ) বিভিন্ন প্রকল্পে আকর্ষণীয় চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মূলহোতাসহ দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।
বুধবার (২১ অক্টোবর) রাতে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে ডিএমপি। গ্রেপ্তাররা হলেন মো. মোজাম্মেল হক (২৯) এবং চক্রের মূল হোতা মো. আল আমিন সরদার (২৫)।
ডিবি পুলিশ জানায়, চক্রটি সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে ‘Bangladesh Real Job’ নামক একটি পেজ খুলে ইউনিসেফের নাম ও লোগো অবৈধভাবে ব্যবহার করে ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ছড়িয়ে দিত। সামাজিক মাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি বুস্টিংয়ের মাধ্যমে হাজার হাজার তরুণ চাকরিপ্রার্থীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হতো।
আগ্রহী প্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে গেলে ফরম বিক্রির অজুহাতে প্রথমে ৫৮০ টাকা নেওয়া হতো। পরবর্তীতে চূড়ান্ত নিয়োগপত্র ও অন্যান্য সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে বিকাশ ও নগদের মতো মোবাইল ব্যাংকিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে জনপ্রতি আরও ২ হাজার ৫৮০ টাকা আদায় করত প্রতারকরা। আর টাকা হাতে পাওয়ার পরপরই নির্ধারিত মোবাইল নম্বরগুলো একযোগে বন্ধ করে দেওয়া হতো।
ডিবি সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের নিয়মিত সাইবার নজরদারিতে বিষয়টি ধরা পড়লে রমনা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। পরে আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে সাভারের রেডিও কলোনি এলাকা থেকে প্রথমে মোজাম্মেল হককে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরবর্তীতে তাঁর দেয়া স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে বুধবার ভোর ৫টার দিকে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জহুরি মহল্লার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে মূল হোতা আল আমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস, জালিয়াতিতে ব্যবহৃত ফেসবুক পেজের নিয়ন্ত্রণ ও একাধিক মোবাইল সিম জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা স্বীকার করেছেন যে, তাঁরা গত ২-৩ বছর ধরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের অসচ্ছল ও বেকার হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থীর কাছ থেকে এভাবে অর্থ আত্মসাৎ করে আসছিলেন। ডিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে এবং এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সহযোগীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।