অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে নীলক্ষেত মোড়ে শিক্ষার্থীদের অবরোধ

রাজধানীর গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্সের (সাবেক গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজ) অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মেহেরুন্নেছার পদত্যাগ এবং রাতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি লাঠিচার্জের ঘটনার বিচারে নীলক্ষেতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা।

শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে নীলক্ষেত ও আজিমপুর সংযোগ সড়কের দুই পাশে অবস্থান নেন তাঁরা। সড়ক অবরোধের কারণে ওই এলাকার যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা এবং অডিটোরিয়ামের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের অজুহাতে ১২ হাজার ৬০০ টাকা জরিমানার নোটিশ দেওয়ার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই অধ্যক্ষকে তাঁর কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল। রাত সাড়ে ১১টার দিকে অবরুদ্ধ অধ্যক্ষকে উদ্ধার করতে গিয়ে পুলিশ শিক্ষার্থীরাদের ওপর লাঠিপেটা করে এবং হামলা চালায়।

এতে বেশ কয়েকজন জওয়ান ও নিরস্ত্র শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মেহেরুন্নেসাকে কলেজে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন এবং নতুন অধ্যক্ষ দায়িত্ব না নেওয়া পর্যন্ত সব ক্লাস-পরীক্ষা ও একাডেমিক কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রাখার ঘোষণা দেন।

ঘটনার সূত্রপাত সম্পর্কে জানা যায়, দুর্গাপূজার ছুটির আগে কলেজের অডিটোরিয়ামে তিনটি আবাসিক হলের স্নাতকোত্তর শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল।

রাত ১০টা এবং পরে অনুরোধের প্রেক্ষিতে রাত ১২টা পর্যন্ত সময় দেওয়া হলেও অনুষ্ঠান শেষ হতে ভোর ৫টা বেজে যায়। নির্ধারিত সময়ের পর অডিটোরিয়াম ব্যবহার করায় ক্ষুব্ধ হয়ে অধ্যক্ষ দুজন শিক্ষার্থীর আবাসিক হলের আসন বাতিল করেন। পরে শিক্ষার্থীরা ক্ষমা চাইতে গেলে আসন ফিরিয়ে দেওয়ার শর্ত হিসেবে এক রাতের এসি ও বিদ্যুৎ বিল বাবদ ১২ হাজার ৬০০ টাকা জরিমানা দাবি করা হয়।

অধ্যক্ষ অধ্যাপক মেহেরুন্নেছা অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করে সাংবাদিকদের বলেন, "অনুষ্ঠানের নির্ধারিত সময় পার করে ভোর ৫টা পর্যন্ত শৃঙ্খলা ভঙ্গ করা হয়েছে। ভবিষ্যতের জন্য তাদের সুশৃঙ্খল করতে এবং দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ অপচয়ের বিল হিসেবে জরিমানা চাওয়া হয়েছে। তবে তারা আমাকে সাদা কাগজে জোর করে পদত্যাগে স্বাক্ষর করাতে চাচ্ছে, যা আমি মানব না।

এদিকে লালবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জামিল হোসেন জানান, সকালে প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী কলেজের সামনের সড়ক আটকে বিক্ষোভ প্রদর্শন শুরু করে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানান, অধ্যক্ষের লিখিত পদত্যাগ এবং পুলিশি হামলার সুষ্ঠু বিচার ও তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন তারা।