সুন্দরবনের নদী ও খালে বিষ ঢেলে মাছ ধরার মোচ্ছব

সুন্দরবন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন বা লবণাক্ত বনাঞ্চল। প্রাকৃতিক বিস্ময় এই বনটি এখন বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ। সেখানকার নদী ও খালে মাছ ধরা নিষিদ্ধ হলেও অবাধে চলছে সেই কাজ। শুধু তাই নয় বিষ দিয়ে মাছ ধরাও নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। 

সাধারণ জেলেরা বলছেন, বিষ দিয়ে মাছ ধরার চক্রটি অনেক শক্তিশালী। তাদের কিছু বলতে গেলে প্রাণের ঝুঁকি তৈরি হয়। 

আর সুন্দরবনের প্রাণী বিশেষজ্ঞরা জানান, নদীতে বিষ দেয়ায় শুধু মাছ নয়, হুমকির মুখে বনের জীব বৈচিত্র্য। এভাবে চলতে থাকতে সুন্দরবনের খালে মাছ বিলীন হয়ে যাবে।

প্রতিদিন লুকিয়ে সুন্দরবনের ছোট ছোট খালে ঢুকে পড়ে চোরা জেলেদের সংঘবদ্ধ চক্র। সুযোগ বুঝে তারা নদীতে ঢেলে দেয় নির্ধারিত মাত্রার বিষ। 

কিছুক্ষণের মধ্যে মাছ ভেসে উঠতে থাকে। পরে ওই খালের একটি বড় এলাকা ঘেরা দিয়ে দ্রুত মাছ সংগ্রহ করে পালিয়ে যায়। 

সাধারণ জেলেরা জানান, বিষ দিয়ে মাছ ধরায় নষ্ট হচ্ছে কোটি কোটি মাছের পোনা। যে কারণে বহু জাতের আজ বিলুপ্ত। নদীতেও মাছ কমে গেছে।  

জেলেরা আরো জানান প্রাণের ভয়ে এই ধ্বংসের প্রতিবাদ তারা করতে পারেন না। এনিয়ে কথা বললেই পেতে হয় হত্যা হুমকি।

সুন্দরবন গবেষক এবং খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহামুদ হোসেন জানান, বিষ দিয়ে মাছ ধরায় মরে যায় জলজ প্রাণী, সেগুলো খায় বনের পাখিমস ও গুইসাপ। 

খুলনার জেলা প্রশাসক মনিরুজ্জামান তালুকদার বলছেন, বিষ দিয়ে যারা মাছ ধরে তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষনিক ভাবেই কঠোর আইন প্রয়োগের সিদ্বান্ত নেয়া হয়েছে। 

বর্তমানে সুন্দরবনে রয়েছে ২৪ প্রজাতির চিংড়ি, ১৪ প্রজাতির কাকড়া, কয়েক প্রজাতির শামুক, ঝিনুক এবং ৩২০ প্রজাতির পাখি। ৩৫ প্রজাতির সরীরসৃপ, উদবিড়ালসহ ২১৯ প্রজাতির জলজ প্রাণী অস্তিত্ব হুমকির মুখে রয়েছে।  



একাত্তর/এসএ