রংপুরের পীরগঞ্জের মাঝিপাড়ায় হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়ি ও মন্দিরে হামলা-অগ্নিসংযোগের ঘটনায় অভিযুক্ত ৪১ জনের মধ্যে ৩৮ জনকে জেলহাজতে পাঠালেও রিমান্ড চায়নি পুলিশ। এতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সেখানকার স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়।
ওই এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়য়ের বাসিন্দারা বলেন, যাদের গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে তাদের রিমান্ড চাইলে তথ্য বেরিয়ে আসতো।
এদিকে ফেসবুকে ধর্ম অবমাননার দায়ে অভিযুক্ত পরিতোষ সরাকারের দেয়া তথ্য অনুসারে আরো দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে এখনো গ্রামে ফিরে আসেনি পরিতোষের পরিবার। পুরো ঘটনা তদন্তে মানবাধিকার কমিশন ও জেলা প্রশাসনের আলাদা দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বুধবার (২০ অক্টোবর) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হামলা ও অগ্নিসংযোগের তিনদিন পার হলেও এখনো চুলা জ্বলেনি কোনো বাড়িতে। রাধা-গোবিন্দ মন্দিরের উঠানেই রান্না করা হচ্ছে সবার জন্য। ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন সহায়তায় দেওয়া হয়েছে নগদ টাকা ও কাঠ-বাঁশ-টিন। এরই মধ্যে কেউ কেউ শুরু করেছেন বাড়ি সংস্কারের কাজ।
আরও পড়ুন: চৌমুহনীতে সাম্প্রদায়িক হামলা: টিভি ফুটেজ দেখে গ্রেপ্তার ছয়
মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান দাবি করেন, পীরগঞ্জের ঘটনা পরিকল্পিত। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হোক।
জেলা প্রশাসক আসিব আহসান জানান, ঘটনা তদন্তে মানবাধিকার কমিশন ও জেলা প্রশাসনের আলাদা দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ঘটনার সাথে সম্পৃক্তদের দ্রুত ধরা হবে। এ ঘটনায় করা দুই মামলায় ৪২ জনের নামসহ অজ্ঞাতদের আসামি করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
একাত্তর/টিএ