সিরাজগঞ্জের তাড়াশে মোবাইলে গেমস খেলাকে কেন্দ্র করে বিরোধের ঘটনায় শাহরিয়ার ইসলাম সৌরভ (১৬) নামের এক মাদ্রাসা ছাত্রকে গলা কেটে হত্যা করার চেষ্টা করেছে তারই তিন সহপাঠী।
বৃহস্পতিবার (২৮ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০ টার দিকে তাড়াশ উপজেলার বারুহাঁস ইউনিয়নের দিঘরিয়া দারুল উলুম ইসলাহুল মুসলিমিন কওমী মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে।
হত্যা চেষ্টার পর ওই রাতেই গুরুতর আহত অবস্থায় শাহরিয়ারকে উদ্ধার করে প্রথমে তাড়াশ উপজেলা ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনা হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় রাত ১২ টার দিকে তাকে বগুড়া শাহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
আহত মাদ্রাসা ছাত্র শাহরিয়ার ইসলাম সৌরভ নাটোর জেলার গুরুদাসপুর উপজেলার পিপলা গ্রামের মহসীন আলীর ছেলে।
তাড়াশ থানার ওসি মো. ফজলে আশিক এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
ওসি মো. ফজলে আশিক জানিয়েছেন, ঘটনার পর ওই রাতেই থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
দিঘরিয়া দারুল উলুম ইসলাহুল মুসলিমিন মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা সিদ্দিকুর রহমানসহ একাধিক শিক্ষক জানান, মোবাইলে গেমস খেলাকে কেন্দ্র করে মাদ্রাসার ছাত্র শাহরিয়ার ও তার অন্য তিন সহপাঠীর মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়।
আর ওই বিরোধেকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০ টার দিকে বাড়ি যাওয়ার পথে মনোহরপুর গ্রামীণ রাস্তায় শাহরিয়ারের তিন সহপাঠী তাকে ধরে মাটিতে ফেলে ধারালো চাকু দিয়ে গলা কাটার টেষ্টা করে।
এ সময় শাহরিয়ারের চিৎকারে লোকজন এগিয়ে আসলে তারা শাহরিয়ারকে ফেলে পালিয়ে যায়।
আরও পড়ুন: নৌকা প্রতীক নিয়ে এসে জামায়াত নেতার ফুলেল শুভেচ্ছা নিলেন মেয়র
পরে খবর পেয়ে মাদ্রাসার শিক্ষক, ছাত্র ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে তাড়াশ উপজেলা ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনেন। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে পরে বগুড়া শাহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
এ প্রসঙ্গে তাড়াশ থানার ওসি মো. ফজলে আশিক বলেন, প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে মোবাইল গেমস খেলাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধেই এ ঘটনা ঘটে
থাকতে পারে। আর আহত ছাত্রের অভিভাবকরা তার চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে থাকায় মামলা করতে বিলম্ব হচ্ছে। তবে তারা যখন আসবেন তখনই মামলা নেওয়া হবে।
একাত্তর/আরবিএস