৩ ডিসেম্বর ঠাকুরগাঁও হানাদার মুক্ত দিবস

৩ ডিসেম্বর ঠাকুরগাঁও পাক হানাদার মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাক হানাদার মুক্ত হয় ঠাকুরগাঁও জেলা। নানা আনুষ্ঠানিকতায় দিবসটি উপদযাপন করার প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ঠাকুরগাঁও মহকুমায় ১০টি থানা ছিল। পাঁচটি নিয়ে পঞ্চগড় জেলা ও পাঁচটি থানা নিয়ে ঠাকুরগাঁও জেলা গঠিত হয় ১৯৮৪ সালে।

মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাসই তেতুলিয়া থানা ছিল শত্রুমুক্ত। পাক হানাদার বাহিনী তেতুলিয়ায় ঢুকতে পারেনি। তাই এই মুক্তাঞ্চল থেকেই যুদ্ধ পরিচালনা করা হতো। 

ঠাকুরগাঁও মহকুমার সব সীমান্তে মুক্তিযোদ্ধারা ভারতে অবস্থান নেয়। তাই সব সীমান্তেই সরাসরি যুদ্ধ চলে ৯ মাস।

ছয় নং সেক্টরের আওতায় বীর মুক্তিযোদ্ধারা মিত্র বাহিনীর সহায়তায় ২৯ নভেম্বর পঞ্চগড় থানা দখল করে ফেলে। তাই পাকিস্তানি  শত্রুরা পিছু হটতে থাকে। 

তারা পঞ্চগড় ছেড়ে পিছু হটে ময়দানদিঘী তারপর বোদা এবং পরে ঠাকুরগাঁও থানার ভুল্লিতে ঘাটি গাড়ে। সেখানে বীর মুক্তিযোদ্ধারা যাতে না আসতে পারে তাই পাকিস্তানি বাহিনীরা বোমা মেরে ভুল্লি ব্রীজটি উড়িয়ে দিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। 

ব্রীজের ওপারেই ১ ডিসেম্বর রাতে পৌঁছে যায় বীর মুক্তিযোদ্ধারা। সেখানে চলে রাতভর সম্মুখযুদ্ধ। যুদ্ধ চলে ২ ডিসেম্বর সারাদিন। 

তারপর পাক সেনারা পিছু হটে ঠাকুরগাঁও শহরে অবস্থান নেয়। মুক্তিযোদ্ধারা মিত্রবাহিনীর সহায়তায় ভুল্লি পার হয়ে ঠাকুরগাঁও শহরের দিকে রওনা দিলে দেখে রাস্তায় মাইন পোতা। 

২ ডিসেম্বর রাতভর মাইন অপসারণ করে প্রচন্ড আক্রমণ করে এগুতে থাকলে পাকিস্তানি বাহিনী ঠাকুরগাঁও শহর ছেড়ে পালিয়ে যায়। শতশত মুক্তিযোদ্ধা ৩ ডিসেম্বর ভোরে শহরে ঢুকে পড়ে। ফাঁকা ফায়ার করতে করতে জয়বাংলা ধ্বনিতে শহর প্রকম্পিত করে। 

এরপর ঠাকুরগাঁও থানায় বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন তারা। এভাবেই শত্রু মুক্ত হয় ঠাকুরগাঁও জেলা।


একাত্তর/এসজে