চতুর্থ ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে আতঙ্কের জনপদ হয়ে উঠেছে পাবনার ভাঁড়ারা গ্রাম। সংঘর্ষ ও গোলাগুলিতে এক স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী নিহত হবার পর থেকেই গ্রামটিতে ভাংচুর এখন নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে উঠেছে।
এনিয়ে গোটা ইউনিয়নে বিরাজ করছে থমথমে পরিবেশ। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোও প্রায় বন্ধ। কমে গেছে মানুষের চলাফেরা। বিশেষ করে দিনের আলো কমে আসলে মানুষের চলাচলও প্রায় শূন্যে নেমে আসে। সব মিলিয়ে আতঙ্কের পরিবেশে আছে বাসিন্দারা।
গেলো শনিবার নৌকা ও স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলিতে খুন হন ভাঁড়ারা গ্রামের ইয়াসিন আলম নামে আনারস প্রতীকের এক স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী। তার মৃত্যুর পর শোকে স্তব্ধ ভাঁড়ারা ইউনিয়ন। কারণ, এই জনপদের রক্তাক্ত ইতিহাস।
গ্রামটির শোকাহত মানুষগুলো বলছেন, নির্বাচনের আগে এমন খুনোখুনির ইতিহাস বহু বছরের। ভোটের আগে প্রকাশ্যে চলে অস্ত্রের মহড়া। সহিংসতার কারণে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার সুযোগও হয় না অনেকের। এর থেকে এখন পরিত্রাণ চাইছেন তারা।
তারা জানান, ভাঁড়ারা জনপদের মতো এমন প্রতিহিংসামূলক এলাকা খুব কমই আছে। পুরনোকে সরিয়ে নতুন নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব আর রাজনীতির প্রভাব বিস্তারে সেখানে সংঘর্ষ ও হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা ঘটেই চলছে। দীর্ঘদিনের এই প্রতিহিংসামূলক রাজনীতি থেকে অবসান চান স্থানীয়রা।
সাম্প্রতিক ঘটনার পর থেকে ভয় আর আতংকের কারণে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখছেন এলাকার ব্যবসায়ীরা। মানুষজন বলছেন, আবার কখন হামলা হয় এই আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের। তারা জানান, শুধু এই ইউনিয়নেই রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় ২০ বছরে খুন হয়েছেন প্রায় ৫০ জন।
এদিকে ৩৪ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরও মানুষের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার পর থেকে গ্রেপ্তার আতঙ্কে ভুগছেন এলাকার মানুষ। ইয়াসিন হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়েছেন এজাহারভুক্ত দুইজন। কিন্তু এখনো ধরা পড়েনি প্রধান আসামি আবু সাইদ খান।
পাবনা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) রোকনুজ্জামান বলেন, খুনের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হবে। তারা এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছেন। দু’জনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। সেই সঙ্গে খুনের ঘটনার পরে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
একাত্তর/এআর