জাতিরাষ্ট্র গঠনের জন্মযুদ্ধে বাঙালির বিজয়ের ৫০ বছর পূর্তি আনন্দোৎসবে উদযাপন করছে বাংলাদেশের বিভিন্ন সংগঠন ও সাধারণ মানুষ। কর্মসূচিগুলোর মধ্যে ছিলো ডিসপ্লে, কুচকাওয়াজ, আলোচনা সভাসহ নানা আয়োজন।
ঘরে থাকা মানুষগুলোও আজ স্বতঃস্ফূর্ত পা বাড়িয়েছেন। মুক্ত আকাশের নিচে বিজয়ের আনন্দ উপভোগ করছেন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিসহ আপামর আমজনতা।
বৃহস্পতিবার (১৬ ডিসেম্বর) দিবসের প্রথম প্রহরে শহীদ বেদিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনসহ মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মার শান্তি কামনায় দোয়া-মোনাজাত করে এসব কর্মসূচি শুরু হয়।
একাত্তরের নিজস্ব প্রতিবেদক, প্রতিনিধি, সংবাদদাতাদের পাঠানো খবরে জানা যায়- দেশের ৬৪ জেলাতেই বর্ণাঢ্য আয়োজনের মাধ্যমে দিনটি উদযাপন করা হয়। পাশাপাশি তুলে ধরা হয় দেশের যতো অর্জন। প্রত্যাশা করা হয় সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে বাস্তবায়িত হবে ‘রূপকল্প ২০৪১’। যেখানে মাথাপিছু আয় হবে ১২,৫০০ ডলারের বেশি। বাংলাদেশ হবে সোনার বাংলা, যেখানে দারিদ্র্য হবে সুদূর অতীতের ঘটনা। অভীষ্ট অর্জনের পথে আগামী দু’দশকে পরিবর্তন আসবে কৃষি, শিল্প ও বাণিজ্য, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, পরিবহণ ও যোগাযোগ, ব্যবসার ধরণ এবং কর্ম সম্পাদন পদ্ধতিতে।
বগুড়া: বগুড়ায় বিজয় দিবসের সূচনা হয় মুক্তির ফুলবাড়ীতে সকাল ৬টা ৩৫ মিনিটে মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিফলকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর মধ্য দিয়ে। এরপর সাড়ে ৮টায় বগুড়া জেলা প্রশাসনের আয়োজনে শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় মার্চপাষ্ট। এতে অংশগ্রহণ করেন পুলিশ, আনসার, ফায়ার সার্ভিস, সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, বিয়াম মডেল স্কুল এন্ড কলেজ, সরকারি আযিযুল হক কলেজসহ প্রায় শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
রংপুর: বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে বিভাগীয় নগরী রংপুরে মহান বিজয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। আজ সকাল ৯টায় রংপুর স্টেডিয়ামে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, পায়রা অবমুক্ত করণসহ বেলুন উড়িয়ে বিজয়ের সুবর্ণ জয়ন্তীর উদ্বোধন করা হয়। পরে কুচকাওয়াজও অন্যান্য নানা পরিবেশনা করেন শিক্ষার্থীরা।
নীলফামারী: নীলফামারীতে নানা কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মহান বিজয় দিবস। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে ৫০ তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে শুরু হয় আনুষ্ঠানিকতা। এরপর স্বাধীনতা অম্লান স্মৃতি স্তম্ভে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, প্রেসক্লাব, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষে শহীদদের স্মরণে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়।
রাঙ্গামাটি: ভোরে ৫০ বার তোপধ্বনির মধ্যদিয়ে রাঙ্গামাটি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিজয়ের শুভ সূচনা করা হয়। জেলা প্রশাসনের পক্ষে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা, রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অংসুইপ্রু চৌধুরী, রাঙ্গামাটি পুলিশ সুপার মীর মোদদাছছের হোসেন সহ রাঙ্গামাটির বিভিন্ন
রাজনৈতিক সংগঠন ও সামাজিক সংগঠন বিজয়ের ৫০ বছরে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে বর্ণাঢ্য র্যালি ও শোভাযাত্রার মাধ্যমে মহান বিজয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি সোহাগ রনির নেতৃত্বে র্যালিটি মোগরাপাড়া থেকে শুরু হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মোগরাপাড়া চৌরাস্তা হয়ে উপজেলা বিজয়স্তম্ভে গিয়ে শেষ হয়। র্যালিতে কয়েক হাজার নেতাকর্মী অংশ নেন।
মাগুরা: মাগুরায় বিজয় দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন মসজিদ, মন্দির ও গির্জায় বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়। স্থাপনাগুলোতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও আলোক সজ্জার ব্যবস্থা করা হয়।
নড়াইল: নড়াইলে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস পালিত হয়েছে। দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্যে ভোরে মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভসহ শহরের অন্যান্য বদ্ধ-ভূমিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা জেলা কমান্ড, বিভিন্ন সরকারি বিভাগও দপ্তর, রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন এতে অংশ নেয়।
নরসিংদী: নরসিংদীতে যথাযথ মর্যাদায় পালিত হচ্ছে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী। স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী, ৫০ তম মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে মোসলেহ উদ্দিন ভূঁইয়া স্টেডিয়ামে তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের শুভ সূচনা করা হয়।
বান্দরবান: সূর্য উদয়ের সাথে সাথে বান্দরবানের মেঘলায় বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ চত্বরে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের মহান শহীদদের প্রতি সম্মান জানান, পরে বান্দরবান বাস স্টেশন এর মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি ফলকে এবং বঙ্গবন্ধু মুক্তমঞ্চে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি।
কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামে উদযাপন যথাযোগ্য মর্যাদায় বিজয় দিবস ও ৫০ বছরের রজত জয়ন্তী উদযাপন করা হয়েছে। সকাল ৬টায় তোপধ্বনির পর জেলা প্রশাসক রেজাউল করিম পুলিশ সুপার জান্নাত আর ফেরদৌস, পৌর মেয়র কাজিউল ইসলাম, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জাফর আলী ও জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে কলেজ মোড়স্ত বিজয় স্তম্ভে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
আরও পড়ুন: মুজিবের আদর্শে সমৃদ্ধ ও অসম্প্রদায়িক সোনার বাংলা গড়ার শপথ
পাবনা: মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে পাবনায় উৎসবমুখর পরিবেশের পালিত হয়েছে মহান বিজয় দিবসের সুবর্ণ জয়ন্তী। সকালে ৫০ বার তোপধ্বনির মধ্যদিয়ে শুরু হয় বিজয় দিবসের কর্মসূচী। পরে জেলার কেন্দ্রীয় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিসৌধ দুর্জয় পাবনায় পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন পাবনা জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, জেলা পরিষদ, জেলা আওয়ামী লীগ, জেলা যুবলীগ, পাবনা প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
মেহেরপুর: মেহেরপুরের গাংনীতে স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি ও ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস যথাযথ মর্যাদায় পালিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোরে ৫০ বার তোপ ধ্বনির মাধ্যমে শুরু হয় বিজয় দিবস উদযাপন কার্যক্রম।
দিনাজপুর: দিনাজপুরে মহান বিজয় দিবস ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন সংগঠন ও শ্রেণী পেশার মানুষ।
জামালপুর: বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সারা দেশের ন্যায় যথাযোগ্য মর্যাদায় জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় মহান বিজয় দিবস পলিত হয়েছে।
এছাড়া ঢাকা, ময়মনসিংহ, সাভার, গাজীপুর, ভোলাসহ অন্যান্য জেলা, উপজেলা ও পৌরসভাগুলোতে আনন্দোৎসবের মধ্য দিয়ে বিজয়ের ৫০ বছর উদযাপন করা হয়েছে।
একাত্তর/আরএ