হামলার পেছনে বড় কারো ইন্দন রয়েছে দাবি করে নির্বাচনী সহিংসতার শিকার ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী বলেন, একজন চেয়ারম্যান প্রার্থীর ছেলে আমাকে কোপ দেওয়ার সাহস কীভাবে পায় তার মাথার উপর বড় কারো হাত না থাকলে। আমার উপর হামলার হুকুম কে দিছে এইটা বের করার জন্য তদন্ত হওয়া দরকার।
রোববার (২৬ ডিসেম্বর) রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, আমার নানা এখানে চেয়ারম্যান ছিলেন একাধিকবার, আমার মায়ের কবর এখানে, নানা বাড়ি এখানে, এটা আমার আবেগের জায়গা।
এখানকার লোকজন বিগত ৫ টার্মে, মানে ২৫ বছরে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন দেখেনি। এবারও এখানকার ভোটাররা আশঙ্কা করছিল ইউপি প্রার্থী মোশারফ মোল্লা জালভোট দিয়ে, কেন্দ্র দখল করে নির্বাচন সুষ্ঠু হবার পথ বন্ধ করবে।
হামলার ঘটনা নিয়ে তিনি বলেন, সকালে আমি ৮ নাম্বার কেন্দ্রে ছিলাম, মোবাইলে জানতে পারি, এখানে (৭ নাম্বার কেন্দ্রে) অনেক জালভোট দেওয়া হয়েছে। রাজৈর থানার এএসআই মাহবুবও জালভোট দেওয়ায় সহযোগিতা করছে বলে অভিযোগ জানিয়েছে একজন মেম্বার প্রার্থীসহ বেশ কয়েকজন। পরিস্থিতি দেখতে আমি কেন্দ্রের বাইরের রাস্তার আসতেই মোশারফ মোল্লা আমাকে জিজ্ঞেস করেন, তুমি এখানে আসছো কেন? এসময় আমি তাকে জালভোট দানে বিরত থাকার আহ্বান জানাই।
সাংবাদিকদের এসব বলার সময় রাব্বানীরর পাশে থেকে হামলার শিকার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি আরেক ভুক্তভোগী জানায়, মোশারফ মোল্লার সাথে স্ট্রাইকিং ফোর্স ছিল।
হামলার ঘটনায় প্রশাসনের নীরবতার দিকে প্রশ্ন তুলে রাব্বানীর জানান, হামলা চলাকালে আমি ঘটনাস্থলে ম্যাজিস্ট্রেটকে (মাদারীপুর সদরের ইউএনও) আসতে বলায় তিনি ১৫-২০ মিনিট ধরে আসছি আসছি বলেও আসেননি। আমি এসপিকেও আসতে বলেছি, তিনি ফোর্স পাঠানোর আশ্বাস দিলেও কেউ আসেনি।
এসপিকে বারবার আসতে বলায়, এসপিই আমাকে উল্টো জিজ্ঞেস করেছে আমি এখানে কী করছি। এসপির আচরণ আমার কাছে খুবই বায়াসড মনে হইছে। খুবই পক্ষপাতপূর্ণ মনে হইছে। পুলিশের আচরণ খুব অদ্ভুত মনে হয়েছে আমার, পুরো ঘটনায় পুলিশ ছিল নীরব দর্শক।
হামলার পেছনে অন্য কারো ইন্দন রয়েছে দাবি করে রাব্বানী বলেন, মোশারফ মোল্লা ও তার ছেলের মোবাইল চেক করলে হয়তো জানা যাবে এই হামলার নির্দেশদাতা কারা।
রাব্বানী জানান এ ঘটনায় আমি অবশ্যই মামলা করবো, বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবী করবো এবং চাবো মামলার তদন্ত যেন সিআইডি পিবিআইকে দিয়ে করানো হয়।
আরও পড়ুন: যানজটে দাঁড়িয়ে থাকা বাসে ট্রেনের ধাক্কায় নিহত দুই
প্রসঙ্গত, মামার হয়ে রাজৈরে ইউপি নির্বাচনে কাজ করতে গিয়ে দুপুরে হামলার শিকার হন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ এনে ভোটকেন্দ্রে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় গোলাম রাব্বানি সহ আহত হয়েছেন মোট পাঁচজন।
রাজৈর থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ সাদিক ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে একাত্তরকে বলেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগে সাবেক সাধারন সম্পাদক গোলাম রব্বানীর মামা সালাউদ্দিন মিয়া চেয়ারম্যান পদে (গিটার মার্কা) নিনির্বাচন করেন। ভোট গ্রহণ চলাকালে গোলাম রব্বানী তার মামার পক্ষে প্রভাব বিস্তার করতে বারবার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের গাংকান্দি সরকারি বিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রবেশ করেন। এ ঘটনার জের ধরে তাকে পিটিয়েছে প্রতিপক্ষের লোকজন। পরে পুলিশ ও র্যাব ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে ভর্তি করে।
প্রিজাইডিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক বলেন, ‘কেন্দ্রের ভেতর তেমন কোনো কিছু হয়নি। কেন্দ্রের বাইরে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ভোট সুষ্ঠু ও সুন্দর হয়েছে। কোনো জাল ভোট বা ভোট কারচুপির ঘটনা ঘটেনি। বাইরে কিছু হলে সেটা তো আমার দেখার বিষয় নয়। ’
একাত্তর/এসএ