চতুর্থ ধাপের ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পাল্লা ভারি

ঠাকুরগাঁওয়ে ২৬ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত ২২ টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ১৬ টিতে বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকা মার্বার প্রার্থীরা। আর অন্য ৪ ইউনিয়নে নির্বাচিত হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। 

এর মধ্যে রুহিয়া, আখানগর, আঁকচা, আউলিয়াপুর, চিলারং, রায়পুর, জামালপুর,  মোহাম্মদপুর, গড়েয়া,  রাজাগাও, দেবিপুর, নারগুণ, শুকানপুকুরী, বেগুনবাড়ি, রুহিয়া পশ্চিম,  ঢোলোরহাটে বিজয়ী আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। আর স্বতন্ত্র প্রার্থীরা দখল করেছেন বালিয়া, সালন্দর রহিমানপুর ও জগন্নাথপুর ইউনিয়ন। 

রাঙ্গামাটিতে ১০ টি ইউনিয়নে নির্বাচনে ১ টিতে জিতেছেন আওয়ামী লীগ। আর বাকি নয়টিতে স্বতন্ত্র প্রার্থীর জয়। 

কুমিল্লার আদর্শ সদর, চৌদ্দগ্রাম ও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ২০টি ইউনিয়নে ১২টিতে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীরা এবং বাকী ৮ টিতে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বিজয়ী। এছাড়াও, তিন উপজেলার ২৬ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে ১৭টিতে আওয়ামী লীগ এবং ৯টিতে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত। 

সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা কামরুল হাসান জানান, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে, শৃঙ্খলভাবে ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভোটারদের উপস্থিতিও ছিলো সন্তোষজনক। সন্ধ্যার পর থেকে প্রার্থীদের প্রাপ্ত ভোটের ফলাফল জানিয়ে দেয়া হয়।

বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, ব্রাহ্মণপাড়া সদর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ সমর্থিত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী জহিরুল হক , মাধবপুর ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী ফরিদ উদ্দিন, শিদলাই ইউনিয়নে চশমা প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম, সাহেবাবাদ ইউনিয়নে আনারস প্রতীকের প্রার্থী মনির হোসেন চৌধুরী, শশীদল ইউনিয়নে আনারস প্রতীকের প্রার্থী আতিকুর রহমান রিয়াদ, মালাপাড়া ইউনিয়নে আনারস প্রতীকের প্রার্থী শেখ আবদুল্লাহ আল মামুন, চান্দলা ইউনিয়নে কাপ পিরিচ প্রতীকের প্রার্থী ওমর ফারুক এবং দুলালপুর ইউনিয়নে ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থী আনিসুল হক ভূইয়া রিপন বিজয়ী হয়েছেন।

এছাড়া, নির্বাচনে বিজয়ের পথে ১নং মাধবপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ সমর্থিত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মোঃ ফরিদ উদ্দিন পেয়েছেন ৭ হাজার ৮৩৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি স্বতন্ত্র প্রার্থী সুলতান আহমেদ পেয়েছেন ৭২১৭ ভোট।

২নং শিদলাই ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম (চশমা) ৬ হাজার ৩৪৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি টেলিফোন প্রতীকের প্রার্থী আনোয়ার হোসেন পেয়েছেন ৩ হাজার ৩৫৫ ভোট।

৩ নং চান্দলা ইউনিয়নে কাপ-পিরিচ প্রতীকের প্রার্থী ওমর ফারুক ২ হাজার ৭১৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি নৌকা প্রতীকের মোস্তবা আলী পেয়েছেন ২ হাজার ৭১৬ ভোট।

৪ নং শশীদল ইউনিয়নে আনারস প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী আতিকুর রহমান রিয়াদ ৭ হাজার ৮০৪, আওয়ামী লীগ সমর্থিত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী নজরুল ইসলাম পেয়েছেন ৪ হাজার ৭৩৯ ভোট।

৫ নং দুলালপুর ইউনিয়নে ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থী আনিসুর রহমান ভূইয়া ৩ হাজার ৫৪০ ভোট, নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মো. তফাজ্জল হোসেন পেয়েছেন ২ হাজার ৮৮১ ভোট।

৬ নং ব্রাহ্মণপাড়া সদর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ সমর্থিত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মোঃ জহিরুল হক ৭ হাজার ৪২৯ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ জসিম উদ্দিন পেয়েছেন ৫ হাজার ৭৮৫ ভোট।

৭নং সাহেবাবাদ ইউনিয়নে আনারস প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ মনির হোসেন চৌধুরী ৫ হাজার ১০০ ভোট, প্রতিদ্বন্দ্বি মিজানুর রহমান খান (চশমা) পেয়েছে ৩ হাজার ২৩১ ভোট।

৮নং মালাপাড়া ইউনিয়নে আনারস প্রতীকের প্রার্থী আবদুল্লাহ আল মামুন ২ হাজার ৮৩২ ভোট, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন সমর্থিত ফুলের মালা প্রতীকের প্রার্থী মোঃ ময়নাল হোসেন হাজারী পেয়েছেন ২ হাজার ৩৭৪ ভোট।

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ ও শাহরাস্তি উপজেলার মোট ২১ ইউনিয়নের নির্বাচনে হাজীগঞ্জের ১১ ইউনিয়নের মধ্যে ৬ টিতে আ.লীগের মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী বিজয়ী। আর বাকি ৫ ইউনিয়নে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীর জয়। অন্যদিকে, শাহরাস্তির ১০ ইউনিয়নের মধ্যে ৫ টিতে আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আর বাকি ৫ ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। 

হাজীগঞ্জ উপজেলার রাজারগাঁও ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে ৫৭৯৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আব্দুল হাদি মিয়া, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোঃ রফিক পাটওয়ারী আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ৪৬৬৪ ভোট।

বাকিলা ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে ৫৭০০ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন আনারস প্রতীকের প্রার্থী মিজানুর রহমান, আর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি হাবিবুর রহমান নৌকা প্রতীকে পেয়েছেন ৪০৬৬ ভোট।

টাঙ্গাইলের ২১ টি ইউনিয়নের মধ্যে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে নয়জন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ১১ জন বেসরকারীভাবে বিজয়ী হয়েছেন। 

মানিকগঞ্জের দুই উপজেলায় ১৬টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ৯ জন এবং ৭ জন স্বতন্ত্র বিদ্রোহী প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন।

ঘিওর উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের মধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকে ৩ জন, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র ৪ জন এবং সাটুরিয়া উপজেলার ৯টি  ইউনিয়নের মধ্যে ৬টিতে নৌকা প্রতীকে জয়। এছাড়া, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র ৩ জনের জয়। 

চতুর্থ ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নোয়াখালীর দুটি উপজেলার ১৬ টি ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকে নয় এবং স্বতন্ত্র সাত জন চেয়ারম্য্যান প্রার্থী  বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।

নোয়াখালী জেলা সিনিয়র নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ রবিউল আলম জানান, বোরবার রাতে স্ব স্ব রিটারিং অফিসার ভোট গণনা শেষে ফলাফল ঘোষণা করেন। 

বেসরকারি ভাবে নির্বাচিত চেয়ারম্যানরা হলেন কবিরহাটে নরোত্তমপুর ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ মনোনীত এ কে এম সিরাজ উল্লাহ সিরাজ (নৌকা প্রতিক), বাটইয়া আওয়ামীলীগ মনোনীত জসিম উদ্দিন শাহীন(নৌকা প্রতিক), চাপরাশিরহাট মহিউদ্দিন টিটু (নৌকা প্রতিক), ঘোষবাগ এ কে এম আলাউদ্দিন ভূইয়া (নৌকা প্রতিক), সুন্দলপুরে মোহাম্মদ ইলিয়াস, (আনারস প্রতিক), ধানশালিক  মোঃ শাহাবুদ্দিন(আনারস প্রতিক), ধানসিঁড়ি ইউনিয়নে কামাল খান (নৌকা প্রতিক)। 

এছাড়া সদর উপজেলার এজবালিয়া ইউনিয়নে স্বতন্ত্র বেলাল হোসেন( আনারস), অশ্বদিয়ায় গোলাম হোসেন বাবুল (নৌকা), কাদিরহানিফ ইউনিয়ন আবদুর রহিম( নৌকা), নেয়াজপুরে আমির হোসেন বাহাদুর( নৌকা), পূর্ব চরমটুয়া ফয়সাল বারি চৌধুরী স্বতন্ত্র (আনারস), ১নং চরমটুয়া কামাল উদ্দিন বাবলু( নৌকা), কালাদরাফ শাহাদাত হোসেন সেলিম স্বতন্ত্র (আনারস)কে বেসরকারী ভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়েছে। 

একাত্তর/ এনএ