আগুনে পুড়ে গেছে দু'হাত, দু'পা। পুড়েছে শরীরের বিভিন্ন অংশ। যেখানে নিজেরই দরকার উন্নত চিকিৎসা, সেখানে মা রুনা বেগম ও ছোটো বোন রুশনি আক্তারের মৃতদেহ খুঁজে পেতে বরিশাল শেরে-ই-বাংলা মেডিক্যাল থেকে পালিয়ে সোমবার (২৭ ডিসেম্বর) দুপুরে নমুনা দিতে এসেছেন বরগুনার বেতাগীর করুণা গ্রামের জিসান শিকদার রনি।
শুধু বরগুনা না, অগ্নিদগ্ধ এই শরীর নিয়ে কখনো ঝালকাঠি আবার কখনো ঢাকার শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটে গিয়েও খুঁজছেন মা-বোনকে।
রনির মতো প্রত্যেকের গল্পই এমন। চার দিন পার হওয়ার পর এখন জীবিত নয়, প্রিয় স্বজনের মৃতদেহটি হলেও ফিরে পেতে চান স্বজনরা।
তাই তো ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে লঞ্চে অগ্নিকান্ডে নিখোঁজ স্বজনদের মৃতদেহ ফিরে পেতে অগ্নিদগ্ধ শরীর নিয়ে দিক-বেদিক ছুটছেন তারা।
এদিকে, সোমবার (২৭ ডিসেম্বর) বরগুনা সদর হাসপাতালে মৃতদেহ শনাক্ত করতে স্বজনদের ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: একাই তিনশ যাত্রীকে উদ্ধার করেছেন ট্রলার চালক মিলন
বরগুনার জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান জানান, অজ্ঞাত পরিচয়ে দাফন করা মৃতদেহের নমুনার সাথে নিখোঁজের স্বজনদের নমুনা মিলে গেলে শুরু হবে কবর হস্তান্তর প্রক্রিয়া।
অন্যদিকে, লঞ্চ কর্তৃপক্ষের সর্বোচ্চ শাস্তি, লঞ্চে আধুনিক অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র নিশ্চিত করাসহ সাত দফা দাবীতে মানববন্ধন করেছে যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ কমিটি।
উল্লেখ্য, শুক্রবার (২৪ ডিসেম্বর) ভোরে অগ্নিকান্ডে নিহত ৩৭ জনের মৃতদেহ শুক্রবার রাতে ঝালকাঠি থেকে বরগুনায় আনে জেলা প্রশাসন। ১৪ জনের মৃতদেহ সনাক্ত হলেও ২৩ জনকে অজ্ঞাত পরিচয়ে দাফন করা হয়েছে গণকবরে।
তবে, জেলা প্রশাসনের কন্ট্রোল রুমে নিখোঁজ অভিযোগ দাখিল হয়েছে ৩১টি।
একাত্তর/এসজে