১০ মণ ওজনের নিষিদ্ধ শাপলাপাতা প্রকাশ্যে বিক্রি

পটুয়াখালীর কলাপাড়ার মৎস্যবন্দর আলীপুরে এবার প্রকাশ্যে বিক্রি হলো ১০ মণ ওজনের একটি শাপলা পাতা মাছ। মৎস্য সংরক্ষণ আইনে এ মাছ ধরা নিষিদ্ধ বলে প্রশাসনের চোখে পড়ার আগেই মাত্র ৬৫ হাজার টাকায় মাছটি বিক্রি করে তাড়াহুড়া করে চলে যান জেলেরা।

বুধবার (২৯ ডিসেম্বর) উপজেলার মৎস্য বন্দর আলীপুরের বিএফডিসি মার্কেটে মাছটিকে বিক্রি করতে নিয়ে আসেন জেলেরা। পরে ক্রেতা মাছটিকে পিকআপে করে কলাপাড়া থেকে অন্যত্র নিয়ে চলে যায়।

স্থানীয় জেলেরা জানান, চট্টগ্রামের  বাঁশখালি থেকে একটি ট্রলারের জেলেরা মাছটিকে বিক্রির জন্য আলীপুর বন্দরে নিয়ে আসে। পরে বিএফডিসি মার্কেটে বড় শাপলাপাতা মাছটি ৬৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। 

আলীপুর মৎস্য বন্দরের মৎস্য ব্যবসায়ীরা জানান, শাপলাপাতা মাছটি একসময়ে এই এলাকার কিছু মানুষ খেতো। কিন্তু বর্তমানে মৎস্য সংরক্ষণ আইনে এ মাছ ধরা অবৈধ। কিন্তু মাছ ধরার জালে আটকে গেলে জেলেরা বিক্রির জন্য নিয়ে আসেন। 

আরও পড়ুন: পিরোজপুরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে শুঁটকি ব্যবসা

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা জানান, শাপলাপাতা মাছ ধরা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে নিষিদ্ধ। তবে জেলেরা এখন এ মাছ ধরার জন্য জাল বা বড়শি তৈরি করছে না। তারা সচেতন হচ্ছে। যদি অন্য মাছ ধরার জালে আটকে যায় তখন জেলেরা সেটাকে বিক্রি করতে চেষ্টা করে। 

তিনি আরও জানান, এ মাছ ধরা বন্ধে তাদের সচেতনতামূলক প্রচার চলমান রয়েছে । যদি কোনো জেলে শালপাতা মাছ ধরে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সম্প্রতি কলাপাড়া পৌর শহরের মাছ বাজারে শাপলাপাতা মাছ কেটে বিক্রির সময় ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে এক ক্রেতাকে অর্থদণ্ড করে এবং কাটা মাছ জব্দ করে মাটিতে পুঁতে ফেলে। মামলা দায়েরের নির্দেশ দেয়া হয় বিক্রেতার বিরুদ্ধে। এরপর থেকেই মৎস্য ব্যবসায়ীরা কৌশল পাল্টে গোপনে এই মাছ বিক্রি করছেন।


একাত্তর/এসজে