বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলাকে দেশের প্রথম শতভাগ করোনা ভ্যাকসিন গ্রহণকারী উপজেলা হিসেবে ঘোষণা করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ।
বৃহস্পতিবার (৩০ ডিসেম্বর) বিকেলে ফকিরহাট উপজেলার বেতাগা ইউনাইটেড মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে ‘বেতাগা দিবসের’ অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সিনিয়র সচিব লোকমান হোসেন মিয়া এই ঘোষণা দেন।
এ সময় তিনি বলেন, দেশে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন রয়েছে। আগামী মার্চ মাসের মধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নির্দেশ অনুযায়ী সবাইকে ভ্যাকসিনের আওতায় আনা হবে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে লোকমান হোসেন বলেন, ভ্যাকসিন গ্রহণকারী হিসেবে ফকিরহাট উপজেলা দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এই দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে দেশের অন্য জেলাগুলোতে বাস্তবায়ন করা হবে। টার্গেট অনুযায়ী দেশে ডিসেম্বরের মধ্যে শতকরা ৫০ ভাগ ভ্যাকসিন দেওয়ার কাজ শেষ হবে। এর মধ্যে প্রথম ডোজ শতকরা ৬০ ভাগের বেশি দেওয়া হয়েছে। আর দ্বিতীয় ডোজ শতকরা ৪৫ ভাগ দেওয়া হয়েছে।
ভ্যাকসিন নিয়ে কোনো সঙ্কট নেই আবারও জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের প্রয়োজন ২৭ কোটি ভ্যাকসিন। সরকারের টাকায় ২১ কোটি ভ্যাকসিন কেনা হয়েছে। বিভিন্ন দেশ থেকে ১০ কোটি ভ্যাকসিন অনুদান হিসেবে পাওয়া গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, ফকিরহাটের এই সফলতাকে অনুসরণ করে অন্য জেলা ও উপজেলাগুলোতে ভ্যাকসিনের কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। আগামী মার্চের মধ্যে টার্গেট গ্রুপের সবাইকে ভ্যাকসিনের আওতায় আনা হবে। ষাটোর্ধ মানুষকে বুস্টার ডোজের আওতায় আনা হয়েছে। যথেষ্ট টিকা মজুত আছে। টিকা নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই।
ফকিরহাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান স্বপন দাশ জানান, উপজেলায় ভ্যাকসিন গ্রহণকারীর সংখ্যা নির্ধারণ করা হয় এক লাখ ২৬ হাজার। এর মধ্যে এক লাখ ২০ হাজার মানুষকে ভ্যাকসিনের আওতায় আনা হয়েছে। বাকি ছয় হাজার মানুষ ফকিরহাটের বাইরে বসবাস করেন। টার্গেট অনুসারে ফকিরহাটের ১২ বছরের ঊর্ধ্বে শিক্ষার্থী এবং ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে সব মানুষকে ভ্যাকসিনের আওতায় আনা হয়েছে। নানাভাবে প্রচার এবং বিভিন্ন এলাকায় ক্যাম্প তৈরি করে ফকিরহাটবাসীকে করোনার ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: করোনা বাড়লে লকডাউন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
ওই অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সাইদুর রহমান, বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আজিজুর রহমান, সিভিল সার্জন ডা. জালাল উদ্দীন আহম্মেদ, খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাজস্ব মোছা. শাহানাজ পারভীন, ফকিরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানজিদা বেগম প্রমুখ।
একাত্তর/এসি