ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সদস্য পদে জয়ী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সমর্থককে হত্যা করে মরদেহ রাস্তার পাশে ফেলে রাখার অভিযোগ উঠেছে জয়ী প্রার্থী ও তার সমর্থকদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে ওই ইউপি সদস্য দেলোয়ার হোসেনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে গ্রামবাসী।
শুক্রবার (৩১ ডিসেম্বর) রাতে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার সনমান্দী ইউনিয়নের সাজালেরকান্দি গ্রামে এ হত্যার ঘটনা ঘটে।
নিহতের নাম নয়ন মিয়া (৩০)। তিনি উপজেলার সনমান্দী ইউনিয়নের মারুবদী গ্রামের আলম মিয়ার ছেলে।
নিহতের স্ত্রী মানছুরা আক্তার জানান, গত ২৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিত উপজেলার সনমান্দী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ইউপি সদস্য প্রার্থী ছিলেন দেলোয়ার হোসেন ও ফিরোজ মিয়া। তার স্বামী নয়ন মিয়া ফিরোজ মিয়ার পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন।
তিনি জানান, নির্বাচনের আগে থেকেই তার স্বামীকে দেলোয়ার হোসেন ও তার সমর্থকরা বিভিন্নভাবে হুমকিধামকি দিয়ে আসছিল। নির্বাচনে দেলোয়ার হোসেন জয়ী হওয়ার পরই তার স্বামী তাদেরকে নিয়ে পার্শ্ববর্তী বন্দর উপজেলার কেওঢালা এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন।
আরও পড়ুন: ট্রেন তল্লাশি করে গাঁজাসহ তিন যাত্রী গ্রেপ্তার
শুক্রবার সন্ধ্যায় মারুবদী আসার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হয়ে আর ফেরেননি নয়ন। রাতভর মুঠোফোনে যোগাযোগ করেও তার খোঁজ পাওয়া যায়নি। পরদিন সকালে সাজালেরকান্দি রাস্তার পাশে তার লাশ খুঁজে পাওয়া যায়।
এদিকে ঘটনাস্থলে পুলিশ ও লোকজন জড়ো হলে সেখানে দেলোয়ার হোসেন সেখানে উপস্থিত হলে স্থানীয় গ্রামবাসী হত্যার সঙ্গে দেলোয়ার জড়িত থাকার অভিযোগে বিক্ষোভ করেন। পরে দেলোয়ার হোসেনকে পুলিশের সামনেই মারধর করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে জনতা।
সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত দাবি করে স্থানীয়রা ইউপি সদস্যকে পুলিশে সোপর্দ করেছে। পুরো বিষয়টির তদন্ত চলছে।
একাত্তর/এসজে