নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন (নাসিক) নির্বাচনের ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএম ব্যবহার নিয়ে শঙ্কা জানিয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী তৈমুর আলম খন্দকার।
তবে, আওয়ামী লীগের প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী জানিয়েছেন প্রযুক্তির ব্যবহারকে আমাদের স্বাগত জানানো উচিত।
আর নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম সব প্রার্থীকে আশ্বস্ত করে বলেছেন, ইভিএম ব্যবহারের কারণে নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে।
দিন যত কাছে আসছে নাসিক নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটের প্রচারের মাত্রা বাড়ছে পাল্লা দিয়ে। জনসংযোগের সঙ্গে সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে পোস্টার মাইকিং এবং লিফলেট বিতরণ।
রোববার বিকাল পর্যন্ত ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের দেওভোগ, শুকুরকারী, ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাবুরাইল ও ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাবুরাইলসহ বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেন তৈমুর আলম খন্দকার।
এ সময় তিনি ইভিএম নির্বাচনে কারচুপির আশঙ্কার কথা জানান। তিনি বলেন, ইভিএমের ভুল ব্যবহারের কারণে কারচুপি হবার আশঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যায় না।
এছাড়া, নির্বাচনে কারা কালো টাকা ছড়াচ্ছে, সেটিও জানতে চেয়েছেন তিনি। তৈমুর বলেন, প্রশাসন ও সাংবাদিকদের উচিত কারা কালো টাকা ছড়াচ্ছে তাদের খুঁজে বের করা।
তৈমুর বলেন, আমি কখনও কারও ক্ষতি করিনি। আমার গণ-বিরোধী কোনও ভূমিকা নেই। আমার ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ড ভোটাররা মূল্যায়ন করবে বলে আশাবাদী।
এদিকে, নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারকে স্বাগত জানিয়ে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, আমাদেরকে সবাইকে প্রযুক্তিবান্ধব হতে হবে।
নগরীর ৪ নম্বর ওয়ার্ডের শিমরাইল, আটি, আজিবপুর, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সিদ্ধিরগঞ্জ বাজার, ওমপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগের তিনি একথা জানান।
এ সময় তিনি আরো অভিযোগ করেন, নির্বাচনে একটি পক্ষ ভোটারদের প্রভাবিত করতে কালো টাকা ছড়াচ্ছে। কালো টাকার ব্যবহার রোধে প্রশাসন ও গণমাধ্যমকে সক্রিয় হতে হবে।
আর, নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, ইভিএমে ভোট সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য। কারণ আঙ্গুলের ছাপ দিয়ে পরিচয় নিশ্চিত না করা পর্যন্ত ভোট দিতে পারেন না ভোটার।
রোববার দুপুরে সিটি নির্বাচনের প্রার্থীদের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের মতবিনিময় সভায় তিনি আরো বলেন, ইভিএমে একজনের ভোট আরেকজনের কাছে চলে যাওয়া সম্ভব না।
তিনি বলেন, ইভিএমে একটি উপায় আছে, সেটি হলো একজনের ভোট আরেকজনের দেয়ার। সেটা হলো আরেকজন যদি আপনার ব্যালটে টিপ দিয়ে দেয়, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে বাধা দেবেন।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে পাল্টাপাল্টি সমাবেশ, ১৪৪ ধারা জারি
নির্বাচনে সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১৪৮ নির্বাচন করছেন। সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ৩৪ জন লড়ছেন। ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনের ভোট অনুষ্ঠিত হবে।
২৭টি ওয়ার্ডের মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ১৭ হাজার ৩৫৭ জন। এরমধ্যে ২ লাখ ৫৯ হাজার ৮৩৯ জন পুরুষ ভোটার ও ২ লাখ ৫৭ হাজার ৫১৭ জন নারী ভোটার রয়েছেন।
একাত্তর/আরএ