মাঘের শুরুতেই সারাদেশেই জেঁকে বসেছে শীত। বিশেষ করে দেশের উত্তরাঞ্চলে বইছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ, সঙ্গে আছে কনকনে বাতাস আর ঘন কুয়াশা।
এমন পরিস্থিতিতে বাড়ছে শীত জনিত রোগ-বালাই। ঠাণ্ডা, শ্বাসকষ্ট, অ্যালার্জি, চর্মরোগসহ শীতকালীন নানা ধরনের রোগ। ফলে হাসপাতালে ভিড় বেড়েছে রোগীদের।
দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে প্রয়োজনীয় শয্যা না থাকায় চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে হাসপাতালের মেঝেতেই। চিকিৎসকরা বলছেন, শীত আরো বাড়লে রোগীর সংখ্যাও বাড়বে।
রোগী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শীতে আবহাওয়া পরিবর্তনের ফলে সাধারণত যেসব রোগ দেখা দেয়, সেসব রোগীই তুলনামূলকভাবে বেশি।
ঠাণ্ডা, কাশি, শ্বাসকষ্টের রোগীর সংখ্যা শীতের কারণে দ্বিগুণ বেড়েছে। সকাল আটটার দিকে রোগীর সংখ্যা কম হলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকে।
সোমবার (১৭ জানুয়ারি) দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় আট দশমিক সাত ডিগ্রি সেলসিয়াস। পৌষের শেষ থেকে মাঘের প্রথম সপ্তাহ জুড়েই পঞ্চগড়ে বেড়েছে শীতের তীব্রতা।
শীতের দাপটের কারণে হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে শীত জনিত রোগীর সংখ্যা। তবে সব থেকে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বয়স্করা।
জ্বর, সর্দি, কাশি, ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া এবং শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন শীত জনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিনই পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি হচ্ছে রোগীরা।
শীতের তীব্রতায় গাইবান্ধার হাসপাতালগুলোতেও বেড়েছে শিশু রোগী। ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর জন্য ২০ শয্যা বরাদ্দ থাকলেও প্রায় তিন গুণ রোগী চিকিৎসা নিচ্ছে।
অন্যদিকে, শয্যার অভাবে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের বারান্দা ও মেঝেতে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে রোগীদের। অনেকে শয্যা না পেয়ে রোগী নিয়ে ছুটেছেন বেসরকারি হাসপাতালে।
আরও পড়ুন: দৈনিক শনাক্ত সাড়ে ছয় হাজারের বেশি, হার ২০ শতাংশ পার
কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ৬৫ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন, এর মধ্যে ৪০ জনই শিশু।
রোগীর লম্বা লাইন মৌলভীবাজারের হাসপাতালগুলোতেও। জেলা হাসপাতালের পাশাপাশি স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও শিশু ও বৃদ্ধদের চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।
একাত্তর/আরএ