খুলনা বিভাগের একমাত্র বিশেষায়িত হাসপাতাল আবু নাসের হাসপাতালের ল্যাব টেস্ট বন্ধ রয়েছে দীর্ঘদিন। যখন তখন বন্ধ হয়ে যায় এক্সরে মেশিন।
অটো বাইকো মিস্টারি এনালাইজার মেশিনসহ বেশ ক’টি গুরুত্বপূর্ণ মেশিন নস্ট। নানা ধরনের ল্যাব টেস্টের জন্য রোগীদের যেতে হচ্ছে বেসরকারি ডায়াগনিস্টক সেন্টারগুলোতে।
হাড়ের ব্যাথার চিকিৎসা সেবা নিতে এসে খুলনা মহানগরীর আবু নাসের হাসপাতালে নগরীর বানিয়া খামার থেকে এসেছেন আরিফুজ্জামান।
চিকিৎসক তাকে কয়েকটি মেডিক্যাল পরীক্ষা করাতে দিয়েছেন। কিন্তু একটি টেস্টও করাতে পারেননি আবু নাসের হাসপাতালে। কারণ তাঁকে বলা হয়েছে প্রতিটি মেশিন নষ্ট।
একই অভিযোগ আরেক আরেক রোগী আলমগীরের। তিনি আরো জানান, বাইরের ল্যাব টেস্টের ফলাফল নিয়ে সব সময় সন্দেহ থাকে। খরচও হয় কয়েকগুণ।
অন্য এক রোগী বলেন, আমি এখানে সিরাম ক্রিটেনিন টেস্ট করাতে এসেছিলাম। কিন্তু এখানে কেমিক্যাল না থাকায় টেস্ট হবে না বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এতে প্রতিষ্ঠার এক যুগ পার হলেও খুলনার একমাত্র সরকারি বিশেষায়িত হাসপাতালটি পূর্ণতার পরিবর্তে নিত্য নতুন সংকটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে।
আবু নাসের হাসপাতালে কর্মরত টেকনিশিয়ানরা জানান, পরীক্ষার রাসায়নিক উপাদান না থাকায় তারা গত দুই মাস টেস্ট করতে পারছেন না।
কবে নাগাদ এই সমস্যার সমাধান শেষ হবে, সে ব্যাপারে কোন পরিষ্কার তথ্য দিতে পারেননি হাসপাতালের পরিচালক মোহাম্মদ শাহিন।
২৫০ শয্যার এই আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তি রোগী ছাড়াও বহির্বিভাগের তিন থেকে চারশ’ রোগী আসেন নানা ধরনের পরীক্ষা করাতে।
আরও পড়ুন: শুরুতেই নানামুখী সংকটে ঢাকা নগর পরিবহন
আবু নাসের হাসপাতালে শুধু প্যাথলজির পরীক্ষা বন্ধ থাকাই নই, রয়েছে চিকিৎসক সংকটও। জরুরি বিভাগ থাকলেও কার্যত অনেকটাই অকার্যকর।
খুলনার গোয়ালখালী এলাকায় ২০১০ সালে ১১ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয় এই বিশেষায়িত হাসপাতাল। কাগজে কলমে ২৫০ শয্যার হাসপাতাল হলেও এক যুগের মাথায় বর্তমানে ১০টি বিভাগে ২১০টি বেড নিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে এটি।
একাত্তর/আরএ