বিয়ে করাই ছিল 'কাতারি জামাইয়ের' প্রতারণার অস্ত্র

কুমিল্লার সদর দক্ষিণ এলাকা থেকে একাধিক প্রতারণামূলক বিয়ের মাধ্যমে বিদেশে পাঠানোর নাম করে অসংখ্য ভুক্তভোগীর কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া শাকিল মাহমুদ আজাদ ওরফে কাতারি জামাইকে (২৯) গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১১। 

মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারি) রাতে জেলার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

র‌্যাব-১১ উপ-পরিচালক ও কোম্পানি অধিনায়ক মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেন জানান, শাকিল আজাদ ওরফে কাতারি জামাই (২৯) বিয়েকে প্রতারণার প্রধান অস্ত্র হিসেবে বেছে নেয়।

প্রথমে তিনি স্বল্প পরিচিত কারো এলাকায় ঘুরতে যাওয়ার বাহানায় দরিদ্র কিংবা অসচ্ছল পরিবারের মেয়েকে প্রবাসী পরিচয়ে বিয়ে করতেন। এরপর এলাকায় কাতার প্রবাসী জামাই হিসেবে নিজের পরিচয় তৈরি করতেন। নানাভাবে ছোটখাটো দান-ছদকা করে এলাকার মানুষের বিশ্বাস অর্জন করতেন। 

এরপর নানান কৌশলে শ্বশুরবাড়ির এলাকার বেকার যুবকদের প্রবাসে চাকরি দেওয়ার টোপ ফেলতেন। তার ফাঁদে পা দিয়ে বিদেশগমন প্রত্যাশীরা তার কাছে আসলে প্রথমেই সবার কাছ থেকে ভিসা পাসপোর্ট বানানোর কথা বলে তিনি মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিতেন। 

আরও পড়ুন: বিদ্যুৎস্পৃষ্টে রংমিস্ত্রির মৃত্যু, আহত এক

এসময় বিশ্বাস অর্জনের জন্য ভুক্তভোগীদের ব্যাংক চেকও দিতেন তিনি। এমনকি টাকা নেয়ার সময় অনেক ভুক্তভোগীর সাথে কোরআন ছুঁয়ে শপথ করতেও দ্বিধাবোধ করতেন না তিনি। 

এরপর ভিসা ও পাসপোর্টের বিভিন্ন জটিলতার কথা বলে কিংবা সাময়িক হজ্বের ভিসা দেবার কথা বলে আরো নানানভাবে কয়েক ধাপে টাকা হাতিয়ে নিতেন তিনি। আর কোন এলাকা থেকে এসব কৌশলে মোটা অংকের টাকা হাতানো হয়ে গেলে বউ এবং শ্বশুরবাড়ি ফেলে রেখে ব্যবহৃত মোবাইল ও সিম বন্ধ করে ফেলে দিয়ে নিখোঁজ হয়ে যেতেন আজাদ শাকিল। 

জিজ্ঞাসাবাদে র‍্যাবকে আজাদ জানান, বিয়ের সময় তিনি সেসব পরিবারের মেয়েদেরকেই টার্গেট করতেন যাদের তার বিরুদ্ধে মামলা করার সামর্থ্য নেই। ওদিকে কথিত কাতারি জামাই বিদেশ নেয়ার কথা বলে টাকা পয়সা হাতিয়ে লাপাত্তা হওয়ার পর ভুক্তভোগীরা এসে চাপ প্রয়োগ করতো তার শ্বশুর-শাশুড়ির ওপর। 

র‌্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক প্রতারক আজাদ শাকিল জানান, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, রাজশাহী, খুলনা, রংপুর, নীলফামারী ও ফরিদপুরে অনেকটা একই রকমভাবে বিয়ে করে কাতারি জামাই সেজে প্রতারণা করে পালিয়ে যেতেন তিনি। 

র‌্যাব জানায়, শাকিলের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় প্রতারণার বিভিন্ন অভিযোগ থাকলেও এতোদিন নানা কৌশলে তিনি গা ঢাকা দিয়ে ছিলেন। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে আরো জানা গেছে,  প্রতারণার টাকায় চট্টগ্রামে নিজের একটি বেকারির দোকানও খুলেছিলেন তিনি। 

মাঝে একবার কাতারেও পালিয়ে যেতে চাইলেও ভুক্তভোগীদের অনবরত অভিযোগের প্রেক্ষিতে তার পাসপোর্টটি বাতিল করে দেয় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ। ফলে বিদেশে পালাতে না পেরে বেকারি ব্যবসায়ীর ছদ্মবেশে চট্টগ্রামেই থাকা শুরু করে শাকিল। অবশেষে গোপনে নিজ গ্রামের বাড়ি আসতে গিয়ে র‌্যাবের জালে ধরা পড়ে এই প্রতারক। 

শাকিলের বিরুদ্ধে কুমিল্লার বরুড়া থানায় একটি মামলা প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছে র‍্যাব। 


একাত্তর/এসজে