দেশে নির্মিত দুটো অয়েল ট্যাংকার পেলো বিআইডাব্লিউটিসি

সরকারিভাবে তেল বহন করতে আট লাখ লিটার ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন দুটি ট্যাংকার যুক্ত হলো বিআইডাব্লিটিসির পরিবহন বহরে। 

ট্যাংকার দুটির গতি ঘণ্টায় ৯ নটিক্যাল মাইল। ‘ওটি সাফা’ ও ‘ওটি মারওয়া’ নামে এই দুই ওয়েল ট্যাংকার দেশেই নির্মিত হয়েছে। 

নৌপথে তেল পরিবহণে বিআইডাব্লিউটিসির নিজস্ব ওয়েল ট্যাংকার না থাকায় এতোদিন নির্ভর করতে হতো বেসরকারি ট্যাংকার ব্যবসায়ীদের উপর।

এর ফলে জ্বালানি তেল পরিবহনে বছরে ভাড়া বাবদ গুণতে হতো লাখ লাখ টাকা। সে সঙ্গে তেল সরবরাহেও ছিলো অনিয়মের অভিযোগ। 

বেসরকারি খাতের উপর নির্ভরতা কমাতে, রোববার (৩০ জানুয়ারি) মুন্সিগঞ্জের মেঘনা নদীতে যাত্রা শুরু করলো সরকারি জ্বালানী তেল বহনকারী দুটি ট্যাংকার। 

প্রায় ২২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত দুটি ওয়েল ট্যাংকারের ধারণ ক্ষমতা ৬ লাখ করে মোট ১২ লাখ লিটার তেল। ট্যাংকার দুটি দিয়ে বিআইডাব্লিউটিসির নৌযানে তেল সরবরাহ করা হবে।

কম গভীরতায়ও চলবে এ জাহাজ দুটো। আর এতে ব্যবহার করা হয়েছে ৪৫০ হর্স পাওয়ারের সুইডেনের স্ক্যানিয়া ইঞ্জিন।

আর আপাতত চলবে মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ী, মুন্সীগঞ্জ ও মাদারীপুর রুটে। পাশাপাশি জ্বালানি তেল পরিবহনের জন্য ভাড়াও দেয়া যাবে। 

বছরে বিআইডাব্লিউটিসির প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা খরচ হতো জ্বালানি তেল পরিবহনে। এখন সে খরচ এক চতুর্থাংশ কমে আসবে।

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় অয়েল ট্যাংকার ও একটি ফ্লোটিং ওয়ার্কশপের উদ্বোধন করে নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এতে বিআইডাব্লিউটিসির সক্ষমতা আরও বাড়লো।

তিনি জানান, বিআইডাব্লিউটিসির বছরে প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা খরচ হতো জ্বালানি তেল পরিবহনে। তবে এ জাহাজ দুটো নির্মাণ করায় খরচ এক চতুর্থাংশ কমে আসবে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, শিপ বিল্ডিংয়ের ক্ষেত্রে আমাদের বিশাল সম্ভাবনা, বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম জোগানদার হতে পারে শিপ বিল্ডিং।

বিআইডাব্লিটিসি’র চেয়ারম্যান শামীম আল রাজী বলেন, বেসরকারিভাবে তেল পরিবহণে নানা জটিলতা হতো, অভিযোগ ছিল অনিয়মেরও। এখন এ জটিলতা বন্ধ হবে।


একাত্তর/এআর