সমালয় পদ্ধতি চাষাবাদ, কমবে উৎপাদন ব্যয়

কৃষিতে যন্ত্রের ব্যবহার সহজ করতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিস্তীর্ণ জমি একত্রিত করে শুরু হয়েছে সমালয় পদ্ধতিতে চাষাবাদ। 

বিশেষ এ পদ্ধতিতে কৃষক, উৎপাদিত ধানের চারা যন্ত্রের মাধ্যমেই রোপন করবে এবং কাটা শেষে ফসল ঘরে তুলতে পারবে। 

জেলার কৃষি বিভাগ বলছে, এই পদ্ধতিতে শ্রমিক সংকট ছাড়াও নানা প্রতিবন্ধকতা দূর হবে। কমবে উৎপাদন খরচও। 

সমালয়ে ধান চাষ পদ্ধতিতে বিস্তীর্ণ জমি একত্রিত করে একই সময়ে একই সঙ্গে আধুনিক যন্ত্রের মাধ্যমে চাষাবাদের আওতায় আনা হয়ে থাকে।

আর, ট্রে ও পলিথিনে বিশেষ পদ্ধতিতে তৈরি করা হয় বীজতলা। চারা হতে সময় নিয়েছে সাত দিন। সেখান থেকেই বীজ নিয়ে বপন করা হয় ক্ষেতে।

চলতি বোরো মৌসুমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২০২ জন কৃষকের ৩০০ বিঘা জমিতে এমন সমালয় পদ্ধতিতে ধানের চাষাবাদ হচ্ছে। 

সমালয় কর্মসূচির আওতায় জমিতে যন্ত্রের মাধ্যমে ধানের চারা রোপন থেকে কর্তন পর্যন্ত সব প্রক্রিয়া শেষ হবে। এতে উৎপাদন খরচ কমার পাশাপাশি ধান চাষে লাভবান হবে কৃষক।

আরও পড়ুন: ক্ষেতে কাজ করার সময় বজ্রপাতে মাদ্রাসাছাত্রের মৃত্যু

কৃষকরা বলছে, সনাতন পদ্ধতিতে মাটিতে ধানের চারা রোপন করতে গিয়ে মাটি ভেঙে বীজতলা নষ্ট হয়ে যেত। কিন্তু সমালয় পদ্ধতিতে যন্ত্রের মাধ্যমে নিখুঁতভাবে চারা রোপন সম্ভব হচ্ছে।

রাইস ট্রান্সপ্লান্টার যন্ত্র দিয়ে খুব অল্প সময়েই বিঘার পর বিঘা জমিতে নিখুঁতভাবে ধানের চারা রোপন করা যায়। এতে সঠিক পরিমাপে ও দূরত্বে চারা রোপিত হওয়ায় অপচয় কমছে। 

শুধু তাই নয়, এই পদ্ধতিতে ফসলি জমিতে পোকা মাকড়ের বিস্তার রোধ, রোগ ও বালাই দমন সহজতর হওয়ার পাশাপাশি কৃষি শ্রমিক নিয়ে দুর্ভোগ পোহাতে হবে না।

সেই সঙ্গে সমালয় চাষের মাধ্যমে বেশি শ্রমিকের প্রয়োজন না থাকায়, উৎপাদন খরচ অর্ধেকে নেমে এসেছে। লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা। 

নবীনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জগলুল হায়দার বলেন, সমালয়ের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে কৃষিযন্ত্র ব্যবহার করে কৃষকের উৎপাদন খরচ কমানো।এ পদ্ধতিতে বিঘা প্রতি ৩৫-৪০ মণ ধান হবে।  

আর, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপ-পরিচালক রবিউল হক মজুমদার বলেন, সব জাতের চারা দিয়েই সমালয়ে ধান চাষ সম্ভব। তবে, বর্তমানে হাইব্রিড জাতের চারাই ব্যবহার হচ্ছে।


একাত্তর/এসজে