সরস্বতী পূজায় দই মেলা

চলনবিল অধ্যুষিত সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় সরস্বতী পূজা উপলক্ষে দই মেলা শুরু হয়েছে। প্রায় ২৫০ বছরে পুরোনো এই মেলাকে কেন্দ্রে করে সেজে উঠেছে এলাকা, আনন্দে মেতেছে মানুষ। মূলত শুক্রবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় নামিদামি ঘোষদের দই আসার মধ্য দিয়েই শুরু হয়েছে ঐতিহ্যবাহী এ মেলার। 

শনিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে তাড়াশ বাজারে এ মেলাটি বসেছে। চলবে দিন ব্যাপী। 

সরেজমিন মেলায় দইয়ের পাশাপাশি ঝুরি, মুড়ি, মুড়কি, চিড়া, বাতাসা, কদমা, গুড়সহ মুখরোচক নানা উপকরণ বিকিকিনি করতে দেখা গেছে। মানুষের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো।  

এদিকে ঐতিহ্যবাহী এই দই মেলা নিয়ে রয়েছে নানা গল্প-কাহিনী। 

তাড়াশ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি তপন কুমার গোস্বামী জানান, জমিদারি আমলে তাড়াশের তৎকালীন জমিদার পরম বৈঞ্চব বনোয়ারী লাল রায় বাহাদুর প্রথম দই মেলার প্রচলন করেছিলেন।

এলাকায় জনশ্রুতি আছে, জমিদার রাজা রায় বাহাদুর নিজেও দই-মিষ্টি পছন্দ করতেন। জমিদার বাড়িতে আসা অতিথিদের তিনি এ অঞ্চলে ঘোষদের তৈরি দই দিয়ে আপ্যায়ন করতেন। তিনি জমিদার বাড়ির সামনে রশিক রায় মন্দিরের মাঠে সরস্বতী পূজা উপলক্ষে তিন দিন ব্যাপী দই মেলার প্রচলন শুরু করেন। সে থেকে প্রতি বছর শীত মৌসুমের মাঘ মাসে পঞ্চমী তিথিতে সরস্বতী পূজার দিন দই মেলা বসছে। 

কথিত আছে, প্রতি বছর মেলায় আগত সবচেয়ে ভালো, সুস্বাদু দই তৈরি কারিগরকে জমিদারের পক্ষ থেকে উপঢৌকন দেওয়ার রেওয়াজও ছিল। 


এদিকে দইয়ের মেলায় আসা এ অঞ্চলের দইয়ের স্বাদের কারণে নামেরও ভিন্নতা রয়েছে। যেমন- ক্ষীরসা দই, শাহী দই, চান্দাইকোনা, শেরপুর ও বগুড়ার চিনিপাতা দই, টক দই, ডায়াবেটিক দই, শ্রীপুরী দই ইত্যাদি। হরেক নামের দই বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন দামে। 

মেলায় সবচেয়ে বেশি  চাহিদা থাকে, বগুড়ার শেরপুর, রায়গঞ্জের চান্দাইকোনা, নাটোরের গুরুদাসপুরের শ্রীপুর, উল্লাপাড়ার ধরইলের, পাবনার চাটমোহরের হান্ডিয়ালের দই। তাড়াশের দইও বিক্রি হয় প্রচুর। 

আরও পড়ুন: শনিবারের মিটিংয়ে ‘শনি’ কাটাতে যাচ্ছেন না জায়েদ

দইয়ের কারিগর উজ্জ্বল ঘোষ, সুবাস ঘোষ, মহাদেব ঘোষ জানান, সাম্প্রতিক সময়ে দুধের দাম, জ্বালানি, শ্রমিক খরচ, দই পাত্রের মূল্য বৃদ্ধির কারণে দইয়ের দামও বেড়েছে।

তবে মেলা দিন ব্যাপী হলেও চাহিদা থাকার কারণে কোনো ঘোষের দই অবিক্রিত থাকে না। 


একাত্তর/এসি