বঙ্গোপসাগর এবং সুন্দরবন উপকূলে ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলার ডুবির ঘটনায় নিখোঁজ ১২ জেলের সন্ধানে চলছে উদ্ধার অভিযান। কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী, সুন্দরবন বিভাগ এবং স্থানীয় জেলেরা এ উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়েছেন।
রোববার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে দ্বিতীয় দিনের মতো উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়। দুপুর পর্যন্ত নতুন করে আর কোনো মৃতদেহ উদ্ধারের খবর পাওয়া যায়নি।
প্রায় আড়াই হাজার বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে এ তল্লাশী অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে বন বিভাগ।
এর আগে শনিবার উদ্ধারকারিরা বঙ্গোপসাগর এবং সুন্দরবন উপকূলের বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশী করে দুই জেলের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। জীবিত অবস্থায় উদ্ধার হন তিন জেলে। এ সময় ডুবে যাওয়া ১২টি ছোট-বড় ট্রলারও উদ্ধার করা হয়।
কোস্ট গার্ড দুবলা কন্টিনজেন্টের চিফ পেটি অফিসার মাসুম বিল্লাহ জানান, নিখোঁজ জেলেদের সন্ধানে রোববার ভোর ৬টা থেকে দ্বিতীয় দিনের মতো তারা উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। অভিযানে কোস্ট গার্ডের একটি জাহাজ, তিনটি পেট্রোল বোর্ড, নৌবাহিনীর জাহাজ এবং বন বিভাগের নৌযান অংশ নিয়েছে। এছাড়া স্থানীয় জেলেরা ট্রলার নিয়ে উদ্ধার উভিযান চালাচ্ছে। সুন্দরবন উপকূল এবং সাগরের বিভিন্ন এলাকায় তারা তল্লাশী করছে। তবে দুপুর পর্যন্ত নতুন করে নিখোঁজ কোনো জেলের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের দুবলারচর ফরেস্ট ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রলাদ চন্দ্র রায় জানান, নিখোঁজ জেলেদের সন্ধানে বঙ্গোপসাগর এবং সুন্দরবন উপকূলের আড়াই হাজার বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে তল্লাশী চালানো হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় ট্রলারের অংশ বিশেষ ভাসতে দেখা গেলেও নুতন করে কোনো জেলের সন্ধান পাওয়া যায়নি। উদ্ধার অভিযান চলমান রয়েছে।
আরও পড়ুন: চলে গেলেন সুরের সরস্বতী
স্থানীয় জেলেরা জানান, নিখোঁজ জেলেদের স্বজনরা প্রায় ১০০টি ট্রলার নিয়ে উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়েছে। স্বজন আর সঙ্গিদের সন্ধানে সুন্দরবন উপকূলের বিভিন্ন এলাকায় তারা তল্লাশী করছে। নিখোঁজদের জীবিত পাওয়ার আশা ছেড়ে এখন মৃতদেহের সন্ধান করছে। নিখোঁজ জেলেদের পরিবারে আহাজারি চলছে। তবে এখন পর্যন্ত কি পরিমান ট্রলার ডুবে কত সংখ্যক জেলে নিখোঁজ আছেন তার সঠিক সংখ্যা কেউ জানাতে পারেনি। নিখোঁজ জেলেদের বাড়ি বাগেরহাট ও খুলনাসহ উপকুলের বিভিন্ন জেলায় বলে জানা গেছে।
আরও পড়ুন: নানুয়া দিঘি পাড়ের সেই মণ্ডপে সরস্বতী পূজা
প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার রাত ১০টার দিকে বঙ্গোপসাগর এবং সুন্দরবনের দুবলারচরের বিভিন্ন এলাকায় মৌসুমে ঝড়ের তাণ্ডবে দেড় শতাধিক জেলেকে নিয়ে ১৮টি মাছ ধরা ট্রলার ডুবে যায়। প্রায় দেড়শত জেলে সাঁতরিয়ে এবং অন্য ট্রলারের সাহায্যে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও কমপক্ষে ১৪ জেলে নিখোঁজ থাকে।
শনিবার উদ্ধার অভিযান চলাকালে কোস্ট গার্ড সদস্যরা মামুন শেখ (৪০) এবং ইসমাইল খানের (৩৬) মৃতদেহ উদ্ধার করেন। এছাড়া কোস্টগার্ড সদস্যরা বঙ্গবন্ধুর চর এলাকা থেকে জীবিত অবস্থায় তিন জেলেকে এবং দুটি ট্রলার উদ্ধার করে। এছাড়া ডুবন্ত ১২টি ট্রলার উদ্ধার করা হয়। এখনও ১২ জেলে নিখোঁজ রয়েছেন।
একাত্তর/আরবিএস