আহত তিন সন্তানের উন্নত চিকিৎসা চান মা মিনু রানী

স্বামীর মৃত্যুর ১১ দিনের মাথায় মর্মান্তিক এক সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁচ সন্তানকে হারিয়ে পাগলপ্রায় মা মিনু রানী। আহত তিন সন্তানের অবস্থাও সংকটজনক। এই পরিস্থিতিতে তাদের জন্য উন্নত চিকিৎসার আবেদন জানিয়েছেন শোকাহত মা।

শুধু তাই নয়, যে অ্যাম্বুলেন্সে ডুলাহাজরায় নিহতদের মরদেহ বাড়িতে আনা হয়েছিলো, সেটির ভাড়াও শোধ করতে পারেনি পরিবার।

স্বজনরা জানান, এখনই আহতদের চিকিৎসার জন্যে টাকার অভাব দেখা দিয়েছে। কোথা থেকে টাকা আসবে সেই চিন্তায় চোখে অন্ধকার দেখছেন মিনু রানী। অথচ আট সন্তান ও ছয় নাতি-নাতনি নিয়ে সুখের সংসার ছিল মিনু রাণীর। তার শ্রমজীবী স্বামী সুরোজ সুশীলের স্বাভাবিক মৃত্যু হয় ১০ দিন আগে।

এতে শোকে স্তব্ধ হয়ে যান মিনু রানী। সেই শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই আকস্মিক খবর আসে পাঁচ সন্তানের মৃত্যুর। আরো তিন সন্তান এখন হাসপাতালের বিছানায়।

শোক পালন করতেও ভুলে গেছেন মিনু রানী। চূড়ান্ত উদ্বেগ নিয়ে অপেক্ষা করছেন, কখন আহত তিন সন্তান সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরবেন।

এরই মধ্যে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রত্যেক নিহতের জন্যে ২৫ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। তবে, অসুস্থদের চিকিৎসার খরচ এখনো নিশ্চিত হয়নি।

তবে স্থানীয় সংসদ সদস্য জাফর আলম এরই মধ্যে সাংবাদিকদের কাছে পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন।

গত মঙ্গলবার ভোরে চকরিয়ার ডুলাহাজারা হাসিনা পাড়া এলাকায় এক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান মিনু রানীর পাঁচ ছেলে। আহত হন আরো তিনজন।

আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের তিনজন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এর মধ্যে আইসিইউতে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন রক্তিম সুশীল (৩৫)।

নিহতদের বাবা সুরেশ চন্দ্র সুশীল গত ১০ দিন আগে পরলোকগমন করেন। এ কারণে সনাতন ধর্মমতে, ক্ষৌরকর্ম করতে সুরেশের সন্তানেরা মন্দিরে গিয়েছিলেন।

ক্ষৌরকর্ম শেষে মন্দির থেকে বাড়ি ফেরার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে। সুরেশ চন্দ্র সুশীল চকরিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য পরিদর্শক ছিলেন। তার ৮ ছেলে, ২ মেয়ে।

সকলে বিবাহিত। বড় ছেলে হিরণ সুশীল দুই বছর আগে স্ট্রোকে মারা যান। বাকি সাত ভাইদের মধ্যে বড় অনুপম শীল প্যারামেডিক চিকিৎসক।

আরও পড়ুন: নোয়াখালীতে ই-অরেঞ্জের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের মামলা

চকরিয়ায় তার একটি ওষুধের ফার্মেসিও রয়েছে। আরেক ভাই নিরুপম সুশীলেরও ফার্মেসি রয়েছে চকরিয়ায়। দীপক সুশীল ওমানে থাকতেন। চম্পক ও স্মরণ দুইজন ব্যবসা করতেন।

একাত্তর/আরএ