১৩ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজে হাসপাতালে মারা গেলেন চকরিয়ায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় আহত রক্তিম সুশীল।
এনিয়ে ওই সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেলেন ছয় ভাই। চিকিৎসকরা জানান, আহত হওয়ার পর তার অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। এ ঘটনায় আরো এক ভাই এবং বোনের চিকিৎসা চলছে।
মঙ্গলবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকালের দিকে চট্টগ্রাম মেডিক্যালের আইসিইউ ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা গেলো, রক্তিম সুশীলের ছোট ঋদ্ধি এখনও জানেই না তার প্রিয় বাবা আর নেই।
কখনো হাসছে নিজের মনে। কখনো খুনসুটি পাশের জনের সাথে। কখনো বা চিপসের প্যাকেট খুলছেন ঋদ্ধি। অথচ কিছুক্ষণ আগেই পরলোকে চলে গেছে তার বাবা রক্তিম।
মাত্র ক'দিন আগে ঠাকুর দা সুরেশ চন্দ্রকে হারিয়েছেন ঋদ্ধি। কাকারা গিয়েছিলেন ঠাকুর দার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায়। কিন্তু সবাই একে একে ফিরেছেন লাশ হয়ে।
আরও পড়ুন: যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূর চুল কেটে দিলেন স্বামী
ঘাতক পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় আহত তাঁর বাবাও মারা গেলেন। মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রক্তিম মারা যান।
এনিয়ে মোট ছয় ভাই মারা গেলেন। স্বজনরা বলছেন, এমন দুর্ঘটনা যেন কোন পরিবারে না আসে। তারা এই দুর্ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।
নিহত রক্তিম শীলের শ্যালক প্রশান্ত কান্তি দে বলেন, দুর্ঘটনার ধরণ দেখে এটাকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড মনে হয়। এই মৃত্যু নিয়ে নতুন করে তদন্ত হওয়া উচিত।
চট্টগ্রাম মেডিক্যালের চিকিৎসক ডা. রঞ্জন কুমার বলেন দুর্ঘটনায় রক্তিমের আঘাতটি ছিল গুরুতর। শুরু থেকেই তাঁর অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি বাবার শ্রাদ্ধ শেষ করে বাড়ি ফিরছিলেন কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার সাত ভাই ও এক বোন। কিন্তু পথে দ্রুতগতির একটি পিকআপের ধাক্কায় পাঁচজন নিহত হন।
আহত রক্তিম মারা যাওয়ায় এই সংখ্যা বেড়ে ছয় হলো। এখনও চিকিৎসা নিচ্ছেন এক বোন। সবার ছোট প্লাবন সামান্য আহত হওয়ায় হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরে গেছেন আগেই।
একাত্তর/টিএ/এসজে