মাগুরায় পানামা রোগে কলাচাষীদের মাথায় হাত

কাজ হচ্ছে না ছত্রাকনাশকে। তাই, কলাগাছের ছত্রাকজনিত পানামা রোগে মাগুরার কলাচাষীর মাথায় হাত। এরই মধ্যে ১৬০ হেক্টর জমির গাছ নষ্ট হয়ে গেছে। 

চাষীরা বলছেন, কোন ছত্রাকনাশকেই পানামার সংক্রমণ ঠেকানো যাচ্ছে না। চোখে অন্ধকার দেখছেন তারা। দ্রুত পরামর্শ চেয়েছেন কীট বিশেষজ্ঞদের। 

‘কলা রুয়ে না কেটো পাত, তাতেই কাপড় তাতেই ভাত’। খনার এই বচনটিতে বোঝা যায় কলা একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসল। অন্য ফলের তুলনায় কলা সস্তা, সহজলভ্য ও পুষ্টিকর।

সেই কথা মনে রেখেই শৈলডুবি, কেষ্টপুর, হুলিনগর, দুর্গাপুর, আড়পাড়াসহ মাগুরার বেশ কিছু এলাকায় চাষ হয় সবরি আর চাপা জাতের দেশি কলা। 

কিন্তু গেলো দুই বছর ধরে ফিউজারিয়াম অক্সিপোরাম নামের ছত্রাকের উপ প্রজাতির আক্রমণে দিশেহারা চাষীরা। যা পানাম রোগ নামেই বেশি পরিচিত।

কলার সবচেয়ে ক্ষতিকর রোগ পানামা। সবরি জাতের কলায় এ রোগ বেশি দেখা দেয়। এটা ফিউজেরিয়াম নামের ছত্রাকের কারণে হয়ে থাকে।

আরও পড়ুন: ট্রাক-সিএনজি সংঘর্ষে বাড়ি ফেরা হলো না মা-মেয়ের

রোগ দেখা দিলে প্রথমে আক্রান্ত গাছের নিচের পাতার কিনারা হলুদ বর্ণ ধারণ করে। ধীরে ধীরে মধ্যশিরার দিকে অগ্রসর হয় ও গাঢ় বাদামি রং ধারণ করে। 

পরবর্তী সময়ে ওপরের দিকের পাতা হলুদ হতে শুরু করে। অধিক হারে আক্রান্ত হলে পত্রফলক ভেঙে ঝুলে পড়ে। ফলে কাণ্ডটি শুধু স্তম্ভের মতো দাঁড়িয়ে থাকে।

অনেক সময় কাণ্ডের গোড়া লম্বালম্বিভাবে ফেটে যায়। কাণ্ড ও শিকড় আড়াআড়িভাবে কাটলে খাদ্য সঞ্চালন নালির মধ্যে লালচে-কালো রঙের দাগ দেখা যায়। 

এই অবস্থায় ছত্রাকনাশক ব্যবহার করলেও, তা কোন কাজেই আসছে না। এরইমধ্যে কোন কোনো বাগানের ৬০ ভাগ পর্যন্ত কলা গাছেই পচন ধরেছে। 

গাছ বাঁচাতে চাষীরা নানা ধরণের উদ্যোগ নিচ্ছেন, কিন্তু কোন কিছুতেই লাভ হচ্ছে না। সমস্যার সমাধানে আক্রান্ত গাছ জমি থেকে সরিয়ে নেয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন কৃষি কর্মকর্তারা। 

এছাড়া জমিতে এ ছাড়া টিল্ট-২৫০ ইসি ছত্রাকনাশক অনুমোদিত মাত্রায় ব্যবহারের পাশাপাশি মাটিতে পটাশ সারের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়ার কথাও বলা হচ্ছে।

বন্যামুক্ত আর যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হওয়ায়, মাগুরায় সাতবছর ধরে কলা চাষ বেড়েছে। প্রতি বছর অন্তত আটশো হেক্টর জমিতে কলা চাষ হয়।