ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের নারী ওয়ার্ডে ভর্তি এক রোগীর স্বামীকে ধারালো ছুরি দিয়ে কুপিয়েছে সন্ত্রাসীরা। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
বুধবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। দায়িত্বরত নার্সের সাথে কথা কাটাকাটির জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ আহতের স্বজনদের।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শহরের টেপাখোলা বৃন্দাবনের মোড় এলাকার বাসিন্দা মো. রাসেল তার স্ত্রী হীরা আক্তারকে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের নারী ওয়ার্ডে ভর্তি করিয়েছিলেন চিকিৎসার উদ্দেশ্যে। হীরাকে চিকিৎসক রক্ত পরীক্ষার নির্দেশনা দেন।
রাতে জেনারেল হাসপাতালের প্যাথালজি ল্যাব বন্ধ থাকায় বাইরের বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে পরীক্ষা করানোর জন্য কর্তব্যরত নার্সকে সিরিঞ্জে রক্ত টেনে দিতে অনুরোধ করেন হীরার স্বামী রাসেল। দায়িত্বরত সিস্টার ইলা সিকদার রক্ত টেনে দেয়া তার দায়িত্ব না জানিয়ে রাসেলের সাথে দুর্ব্যবহার করেন।
এই সময়ে ওই সিস্টারের সাথে রাসেলের কথা কাটাকাটি হয়। এ ঘটনায় কয়েক মিনিটের মধ্যে দুই-তিনজন অতর্কিতে ওয়ার্ডে প্রবেশ করে হামলা চালিয়ে রাসেলকে কুপিয়ে জখম করে।
আরও পড়ুন: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আগুনে দগ্ধ ছেলের পর চলে গেলেন বাবাও
খবর পেয়ে কোতোয়ালী থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
আহত রাসেলের স্ত্রী হীরা জানান, তার শরীরের এক পাশ প্যারালাইজড। প্রতিদিন দুইবার তাকে রক্ত পরীক্ষা করতে হয়।
সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করলে দেরী হয়ে যাবে বিধায় সিস্টারকে অনুরোধ করা হয়েছিল রক্ত টেনে দিতে। তিনি অভিযোগ করেন, সিস্টার ইলা শিকদারই দেবাশীষ নয়ন নামে একজনকে ডেকে এনে তার স্বামীকে কুপিয়েছে।
নার্স সুপারভাইজার জহুরা বেগম জানান, রোগী ও নার্সের সাথে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে, সেটা মিটমাট করেছি, কিন্ত এই ঘটনায় নার্স ইলা জড়িত কিনা সেটা আমার জানা নেই।
কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সাইফুজ্জামান বলেন, আহত রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক। তার প্রচুর পরিমাণে রক্তপাত হয়েছে।
এখান থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যালে পাঠানো হয়েছে। তিনি জানান, বিষয়টি পুলিশ প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।
এই ব্যাপারে হাসপাতালে আসা পুলিশ কর্মকর্তারা গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান।
একাত্তর/এসজে