বাংলাদেশ-ভারত সাংস্কৃতিক মিলনমেলার পঞ্চম আসরকে ঘিরে বর্ণিল সাজে রাজশাহী নগরীতে এখন উৎসবের আমেজ। সর্বত্র সাজ সাজ রব। শুক্রবার এ মিলনমেলা শুরু হয়।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ, বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রীর ৫০ বছর পূর্তিতে রাজশাহীতে এই মেলার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে।
শুক্রবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সোনা মসজিদ স্থলবন্দর ও বিমানে ঢাকা হয়ে ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে মন্ত্রী, রাজনৈতিক নেতা ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিসহ ৬০ জনের প্রতিনিধিদল রাজশাহীতে পৌঁছেছেন।
প্রতিনিধি দলে রয়েছেন, ত্রিপুরা রাজ্য সরকারের উপ-মুখ্যমন্ত্রী শ্রী জিষ্ণুদেব বর্মা, ত্রিপুরা রাজ্য সরকারের মন্ত্রী শ্রী রাম প্রসাদ পাল, বিহার রাজ্য সরকারের মন্ত্রী সৈয়দ শাহনেওয়াজ হোসেন ও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের প্রতিমন্ত্রী ড. হুমায়ুন কবীর, আই.পি এস (ভিআরএস)।
রাজশাহীতে সাংস্কৃতিক মিলনমেলা আয়োজকদের পক্ষ থেকে সোনা মসজিদ স্থল বন্দর এবং রাজশাহী বিমান বন্দরে ব্যাপক অভ্যর্থনা জানানো হয়েছে।
এছাড়া বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী মো. জুনাইদ আহমেদ পলকসহ সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, সরকারি কর্মকর্তা ও বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধিরা রাজশাহীতে পৌঁছেছেন।
আজ বিকেলে রাজশাহী কলেজ মাঠে উদ্বোধন করা হয়েছে বিভিন্ন পণ্যের মেলা। রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স ইন্ডাস্ট্রিজের সহযোগিতায় রাজশাহী কলেজ মাঠে এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে। মেলায় রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী পণ্য বিক্রি ও প্রদর্শন করা হবে।
রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের পৃষ্ঠপোষকতায় ও ফ্রেন্ডস অব বাংলাদেশের উদ্যোগে রাজশাহীতে শুরু হয়েছে এই মেলা। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে। চার দিনের সাংস্কৃতিক মিলনমেলা উপলক্ষে রাজশাহীকে বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে।
ব্যানার-ফেস্টুন, রঙিন পতাকা স্থাপন, রাজশাহী কলেজের সামনে থেকে জাদুঘর মোড় পর্যন্ত সড়ক আলোকায়ন, নগর ভবন, রাজশাহী কলেজসহ, নগর বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি ভবন ও নগরীর সকল গুরুত্বপূর্ণ মোড় আলোকায়ন, আলপনা, রাস্তার ডিভাইভারগুলোতে রঙের কাজসহ রাজশাহীকে নতুনভাবে সাজানো হয়েছে। রাজশাহীতে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।
চার দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় সিএন্ডবি মোড়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরালে শ্রদ্ধা নিবেদন, সকাল ১০টায় জাতীয় চার নেতার অন্যতম শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন।
আমন্ত্রিত অতিথিদের অংশগ্রহণে সকাল সাড়ে ১১টায় নগরভবন গ্রিন প্লাজায় নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। বিকেল সাড়ে ৪টায় আলোচনা সভা, সন্ধ্যা ৭টায় রাজশাহী কলেজ মাঠে বাংলাদেশ ও ভারতের খ্যাতিমান শিল্পীবৃন্দের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানটি সবার জন্য খোলা থাকবে।
আরও পড়ুন: পথশিশুদের মধ্যে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে পথকলি স্কুল
পরদিন রোববার সকাল ৯টায় বরেন্দ্র রিসার্চ মিউজিয়াম ও পুঠিয়া রাজবাড়ি পরিদর্শন, সকাল ১০টায় নাটোর উত্তরা গণভবনে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ। সন্ধ্যা ৭টায় রাজশাহী কলেজ মাঠে জাতীয় ও স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।
শেষদিন সোমবার সকালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শন, ১০টায় তাহেরপুরে দুর্গামন্দির পরিদর্শন, দুপুর ১টায় বাঘা শাহী মসজিদ ও দরগা পরিদর্শন, বিকেল ৪টায় রাজশাহীতে প্রত্যাবর্তন ও চা চক্রে অংশগ্রহণ।
আয়োজন কমিটির আহবায়ক ও রাসিক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, ভারত আমাদের প্রতিবেশি রাষ্ট্র। ভারত ও বাংলাদেশ জনগণের সম্প্রীতির সম্পর্ক ঐতিহাসিক। সেই সম্পর্ক ভৌগোলিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক, যোগাযোগ সকল ক্ষেত্রে অনন্য উচ্চতায় উঠিয়ে আনার প্রয়াস একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে অগ্রসর হচ্ছে।
একাত্তর/আরএ