ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজে হাসপাতালের এক শিক্ষককের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির মিথ্যা অপবাদকে ঘিরে সৃষ্ট অচলাবস্থা এখনো কাটেনি।
সাধারণ শিক্ষার্থীরা বলছেন, শিক্ষকদের ৪৮ ঘণ্টার ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের কারণে দু'দিন ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে। এতে লেখাপড়া ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে হাসপাতালের নিয়মিত চিকিৎসাসেবাও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
২৭ ফেব্রুয়ারি রাতে শিক্ষকদের এক সভায় ৪৮ ঘণ্টা লাগাতার ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। সোমবারের পর মঙ্গলবারও (১ মার্চ) সকাল থেকে শিক্ষকরা কোনও ক্লাসে যোগদান করেননি। শিক্ষার্থীরাও ক্লাসে আসেননি। গোটা ক্যাম্পাস ছিল প্রায় ফাঁকা।
পরে ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে কলেজে একাডেমিক কাউন্সিলের জরুরি সভা ও দুপুরে আন্দোলনরত শিক্ষক ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সাথে দুই দফা বৈঠক করে কলেজ কর্তৃপক্ষ। কিন্তু এসব বৈঠকেও চলমান সংকটের কোন সমাধান হয়নি।
ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করলেও হাসপাতালে চিকিৎসা কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকবে জানিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষকরা। তবে শিক্ষার্থীরা বলছেন, এতোদিন করোনায় আর এখন শিক্ষকদের চলমান আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তারা।
ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা বলছেন, অপপ্রচারকারীদের বিচার দাবি করায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন তারা। সংকটের সমাধান না হলে হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে বলেও শঙ্কা জানিয়েছেন তারা।
ময়মনসিংহ মেডিক্যালের সার্জারি বিভাগের ডা. এহসানুর রেজা শোভন জানান, তদন্ত শেষ ও বিচার দৃশ্যমান না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. চিত্তরঞ্জন জানান, তদন্ত শেষে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার পর শিগগিরই সংকটের সমাধান হবে।
ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিটির আহ্বায়ক ও হাসপাতালের গাইনি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. তায়েবা তানজিলা মির্জা বলেন, আমরা বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তদন্ত কাজের নির্দেশনা পেয়েছি। আশা করি এ সময়ের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে কথা বলে প্রতিবেদন দিতে পারবো।
গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ময়মনসিংহ মেডিক্যালের ক্যাম্পাসে, সার্জারি বিভাগের এক অধ্যাপকের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ এনে মানববন্ধন করে কয়েকজন শিক্ষার্থী।
আরও পড়ুন: নারী সঙ্গীর জন্যই অস্থির হয়ে পড়েছিলো সেই হাতিটি
কথিত এই যৌন হয়রানির অভিযোগ এর প্রতিবাদ ও অপপ্রচারকারীদের বিচার দাবিতে ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলনে নামেন শিক্ষক, ইন্টার্ন চিকিৎসক ও সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা।