দেশে করোনাভাইরাসে গত ২৪ ঘণ্টায় ৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ। তবে গত কয়েকদিনের তুলনায় এদিন নতুন রোগী শনাক্তের সংখ্যা কমেছে।
করোনাভাইরাস শনাক্তে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় অ্যান্টিজেন টেস্টসহ ২৬ হাজার ৭৭টি নমুনার পরীক্ষা করা হয়েছে। এসময় করোনা ভাইরাসে শনাক্ত হয়েছেন পাঁচ হাজার ৩৪৩ জন। এদিন করোনায় ৫৩ জন পুরুষ ও ২৪ জন নারীসহ মোট ৭৭ জন মারা গেছেন।
এ পর্যন্ত দেশে শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৯৩৭ জন, মারা গেছেন ৯ হাজার ৬৬১ জন। মৃতদের মধ্যে সর্বমোট পুরুষ রয়েছেন ৭ হাজার ২২৬ জন এবং নারী ২ হাজার ৪৩৫।
বয়স বিবেচনায় মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন- ১১ থেকে ২০ বছরের একজন, ২১ থেকে ৩০ বছরের তিনজন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের দুইজন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের পাঁচজন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের ২২ জন এবং ষাটোর্ধ ৪৪ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃতদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৫১ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৫ জন, রাজশাহীর তিনজন, খুলনা বিভাগে দুইজন, বরিশাল বিভাগে এক, সিলেটে একজন এবং রংপুর বিভাগের চারজন রয়েছেন।
এদিনও মৃতদের সবাই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন তিন হাজার ৮৩৭ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন পাঁচ লাখ ৭২ হাজার ৩৭৮ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের গড় ২০.৪৯, আজ পর্যন্ত ১৩.৬৫। সুস্থতার হার (প্রতি ১০০ জনে) ৮৪.২৪ এবং মৃত্যু (প্রতি ১০০ জনে) ১.৪২।
শনিবার নিয়মিত ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এ তথ্য জানায়।
প্রসঙ্গত গত বছরের ৮ মার্চ প্রথম তিন জন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়ার কথা জানায় সরকার। এর ঠিক ১০ দিন পর প্রথম করোনা আক্রান্ত রোগীর মৃত্যুর খবর জানানো হয়। আজকের আগে গত এক বছরে কোনও দিনই ৭৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। এর আগে গত বৃহস্পতিবার ৭৪ জনের মৃত্যুর তথ্য জানায় স্বাস্থ্য অধিদফতর।
এদিকে, গত ২৯ মার্চ আগের এক বছরের রেকর্ড ভেঙে করোনা শনাক্ত হন পাঁচ হাজার ১৮১ জন, সেই রেকর্ড ভেঙে ৩১ মার্চ শনাক্ত হন পাঁচ হাজার ৩৮৫ জন। ১ এপ্রিল ফের নতুন রেকর্ড হয়, শনাক্ত দাঁড়ায় ছয় হাজার ৪৬৯ জনে। ২ এপ্রিল দাঁড়ায় ছয় হাজার ৮৩০ জন। এরপর ৪ এপ্রিল সব রেকর্ড ভেঙে সাত হাজার ছাড়িয়ে একদিনে শনাক্ত হন সাত হাজার ৮৭ জন। ৫ এপ্রিল শনাক্ত হন সাত হাজার ৭৫ জন। ৬ এপ্রিল মঙ্গলবার সাত হাজার ২১৩ জন। এর পরদিন বুধবার শনাক্ত হন সাত হাজার ৬২৬ জন; যেটা এখন পর্যন্ত দেশে একদিনে সর্বোচ্চ শনাক্ত। ৮ এপ্রিল শনাক্ত হন ছয় হাজার ৮৫৪ জন। ৯ এপ্রিল করোনা শনাক্ত হন সাত হাজার ৪৬২ জন, যেটা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শনাক্ত।