কুমিল্লার মুরাদনগরে কৃষিজমির উর্বর মাটি কেটে ইটভাটায় নিয়ে যাচ্ছে একটি চক্র। রহস্যজনক কারণে এসব মাটি ক্রয়-বিক্রয়কারী চক্রদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না প্রশাসন। রাতদিন কৃষিজমি থেকে মাটি কাটলে এতে চোখ পরছে না যেন দায়িত্বশীল কোন কর্মকর্তাদের। স্থানীয়রা মনে করছেন কৃষি জমির মাটি ক্রয় বিক্রয়কারীদের এখনই রুখে দিতে না পারলে এ উপজেলা থেকে আবাদি জমি বিলীন হয়ে যাবে।
স্থানীয়রা, উপজেলার ছালিয়াকান্দি বাজারের দক্ষিণ পাশের বিলে কৃষিজমি থেকে মাটি কাটছেন ওই গ্রামের মৃত. চাঁন মিয়ার ছেলে মো: জসিম উরফে লুঙ্গি জসিম। ছালিয়াকান্দি গ্রামে মেসার্স মনির ব্রিকস ফিল্ড নামে একটি ইটভাটা রয়েছে, সে ইটভাটার মাটি সহ ছালিয়াকান্দি গ্রামের আশপাশের পুকুর ভড়াটের চুক্তি নেয় জসিম। বর্তমানে সে ইটভাটার মাটির জোগান দিতে প্রতিদিন ২০-২৫টি ট্রাক্টর দিয়ে পাশের ফসলি জমি থেকে ভেকু দিয়ে মাটি কেটে সেই ইটভাটায় নিয়ে যাচ্ছে। এতে করে সেখানে থাকা প্রায় ৩০০ শতক কৃষি জমির মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। পাশাপশি ট্রাক্টর দিয়ে মাটি পরিবহনের ফলে রাস্তাগুলোর অবস্থা হচ্ছে বেহাল। ধুলাবালিতে নানা রকম অসুখে আক্রান্ত হচ্ছে স্থানীয় শিশু সহ বয়স্করা। তার নেতৃত্বে বেপরোয়া মাটিখেঁকু চক্রটি কৃষিজমির মাটি কাটার কারনে ওই এলাকার কৃষি নির্ভর কৃষকরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করা তো দূরের কথা ভয়েও মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না বলে জানা স্থানীয় কৃষকরা।
ছালিয়াকান্দি গ্রামের ভুক্তভোগী কৃষক আক্তার পাঠান, খুরশিদ মিয়া, লিটন সাহা, ফাতেমা বেগম, শাহাবুদ্দিন বলেন- আমরা এ জমিগুলোতে বছরে তিনবার ধান চাষ করে থাকি। কৃষি কাজই আমাদের আয়ের প্রদান উৎস। জমি থেকে যা ফসল পাই নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে অবশিষ্ট ফসল বাজারে বিক্রি করে সংসার চালাই। কিন্তু জসিম সহ তার নেতৃত্বে মাটিখেঁকো চক্র ও ইটভাটা মালিকের খপ্পরে পরে অনেক কৃষক জমি বিক্রি করেছেন।
পরে বিক্রি করা জমি থেকে ওই চক্রটি গভীর করে জমির মাটি কেটে নিয়ে যায়। তখন মাটি গভীর করে কাটার ফলে আশপাশের জমির ভাঙনের সৃষ্টি হলে কৃষকরা বাধ্য হয়ে জমি বিক্রি করে।
ভুক্তভোগীরা বলেন, এমন বেপরোয়া কর্মকান্ডে আমরা কৃষি জমি হারাচ্ছি। যেভাবে তারা কৃষিজমি কেটে নিচ্ছে তাতে কিছুদিনের মধ্যেই আমরা বেকার হয়ে পড়ব। প্রশাসন যদি দ্রুত এই মাটিখেঁকোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয় তাহলে আমাদের ফসলি জমি ড্রেজার ও ভেকুর তান্ডবে বিলিন হয়ে যাবে।
মেসার্স মনির ব্রিকস ফিল্ড স্বত্ত্বাধিকারী মনির হোসেন বলেন, কৃষি জমির মালিক লুঙ্গি জসিম। সে আমার কাছে মাটি বিক্রয় করছে, আমি ইটভাটার জন্য ন্যায্য দামে তা কিনে নিচ্ছি। তার সাথে আমার চুক্তি প্রতি ট্রাক্টর হিসেবে মাটি ক্রয়ের, তবে সে কোথায় থেকে মাটি আনছেন তা নিয়ে আমার সাথে কথা হয়নি।
এ বিষয়ে লুঙ্গি জসিম উদ্দিন বলেন-, আমি কৃষকদের জমি কিনে মাটি বিক্রি করেছি। আমি মাটি ব্যবসা করতেছি কোন অন্যায় তো করছি না, আপনারা যা পারেন করেন। এ মাটির ব্যবসা করতে গিয়ে আমি এলাকা সহ যারা আছেন সবাইকে ম্যানেজ করেই কাজ করছি।
মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার অভিষেক দাশ বলেন, মাটি কাটার বিষয়টি আমার জানা ছিল না, এখন আপনার কাছ থেকে জেনেছি। তবে আমরা নিয়মিত ড্রেজার ও কৃষি জমি থেকে যারা মাটি কাটছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি। ছালিয়াকান্দিও বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
একাত্তর/এসএ