স্যাটেলাইট ফোন, জিপিএস ও কম্পাসের মতো অত্যাধুনিক ডিভাইস ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে মানবপাচার করে আসছিল একটি চক্র। মূলত তাদের টার্গেটে ছিল বাংলাদেশি অসহায় যুবক বা মিয়ানমার থেকে বাস্তচ্যুত হয়ে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা নাগরিক।
শনিবার (১৬ এপ্রিল) ভোরে বঙ্গোপসাগরের কক্সবাজার উপকূলের নাজিরারটেক চ্যানেল থেকে অস্ত্র-গুলিসহ এই মানবপাচারকারী চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য জানতে পারে র্যাব। বিকেল চারটার দিকে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান কক্সবাজার র্যাব-১৫ এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর শেখ ইউসুফ আহমেদ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- মহেশখালী উপজেলার শাহ জাহান (৩৭), মোহাম্মদ পারভেজ (২৩), একই এলাকার আবদুল মাজেদ (২৭), আমির মো. ফয়সাল (২৪), মোহাম্মদ শাকের ( ৩০) ও রফিকুল ইসলাম (৩৫)। তাদের প্রত্যেকে আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য বলে জানিয়েছে র্যাব।
এসময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় একটি দেশীয় তৈরি বন্দুক, দুইটি থ্রিকোয়ার্টার গান, চার রাউন্ড কার্তুজ, দুইটি রামদা, একটি স্যাটেলাইট ফোন, একটি কম্পাস, একটি জিপিএস ডিভাইস, ১৬টি মোবাইল ফোন, ১০টি সিম কার্ড ও পাচারে ব্যবহৃত একটি ফিশিং ট্রলার।
মেজর শেখ ইউসুফ আহমেদ জানান, আন্তর্জাতিক মানব পাচারকারী চক্রের কিছু সদস্য নাজিরারটেক চ্যানেলে অবস্থান করছে এমন খবর পেয়ে অভিযানে যায় র্যাব। এসময় পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকালে অস্ত্র-গুলিসহ তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
আরও পড়ুন: লিবিয়ায় মাফিয়ার হাতে বন্দি ছেলেকে ফিরিয়ে আনলেন মা
তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, চক্রের বিদেশী সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য ব্যবহার করা হয় স্যাটেলাইট ফোন। সেইসাথে জিপিএসের মাধ্যমে সাগরে গতিপথ নির্ধারণ করেই মানব পাচার করা হচ্ছিল।
তিনি আরও জানান, এ চক্রের আরও সদস্যদের চিহ্নিত করতে পেরেছে র্যাব। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর কক্সবাজার সদর মডেল থানায় হস্তান্তর করা হবে।