বকুল মিয়া ময়মনসিংহের পালাহার গ্রামের একজন কৃষক। চলতি মৌসুমে তিনি ২ একর জমিতে বোরো ধান আবাদ করেছেন। তার মধ্যে এক একর জমির ধান চিটা হয়ে গেছে। বাকি জমিতেও কমবেশি ক্ষতি হয়েছে। একই গ্রামের কৃষক ফিরোজ মিয়া রোববার (১৭ এপ্রিল) তার ৩৫ শতক জমির ধান কেটেছেন।
ফিরোজ মিয়া জানান, গত বছর এই জমিতে ২২ মন ধান উৎপাদন হয়েছিল। কিন্তু এ বছর চিটার আক্রমনের কারণে ৮ মনের বেশি হবে না।
বকুল ও ফিরোজ মিয়ার মত এই উপজেলায় কয়েক হাজার কৃষকের বোরো ধানে চিটা রোগে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা।
নান্দাইল উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবারের বোরো মৌসুমে উপজেলায় ২২ হাজার ২৩৫ হেক্টর জমিতে ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে বড় অংশই ব্রি-২৮ ও ব্রি-২৯ জাতের ধান। চিটা বেশি আক্রান্ত হয়েছে ব্রি-২৮ ধানে। এবার চৈত্র মাসজুড়েই কোনো বৃষ্টি হয়নি। সে কারণেই চিটা রোগের প্রাদুর্ভাব হয়েছে।
গ্রামের আরেক কৃষক সুলতান উদ্দিন বলেন, আমার ৫ কাঠা জমিতে ধান চিটা হয়ে গেছে। গাছের ওপরের দিকটা মরে খড়ের মতো হয়ে গেছে।
ধরগাঁও ও আমলিতলা বাজারের অন্তত ১৫ জন কৃষকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, ধানে শীষ বের হওয়ার আগে থেকে কোনো বৃষ্টি হয়নি। তাই তাদের সর্বনাশ হয়েছে। চিটা রোগের ক্ষতির কারণে এ বছর ফলন অনেক কমে যাবে। এর ফলে খরচের টাকাও উঠানো যাবে না।
আরও পড়ুন: ইনডেক্সধারী ও নিয়োগ সুপারিশ পাওয়া শিক্ষকদের সব বাধা কাটলো
এই বিষয়ে নান্দাইল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আনিসুজ্জামান বলেন, দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হওয়ায় এই উপজেলায় চিটা রোগ দেখা দিয়েছে। বৃষ্টির অভাবে ও ঝড়ের কারণে চিটা রোগ ছড়াতে পাড়ে। ব্রি-২৮ ধান আগাম হওয়ায় এই ধানে বেশি চিটা হতে দেখা গেছে। চিটা রোগ সম্পর্কে কৃষকরা যাতে আগাম প্রস্ততি নিতে পারে সেজন্য সচেতনতামূলক ১ হাজার লিপলেট বিতরণ করা হয়েছে।
একাত্তর/আরবিএস