কুড়িগ্রামে পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কাঁচা ধান কাটছে চাষিরা

কয়েকদিন থেকে অবিরাম বৃষ্টিতে কুড়িগ্রাম জেলার চর ও নিচু এলাকার ধানক্ষেত তলিয়ে গেছে। পানির নীচে থাকতে থাকতে ধানগাছে পচন শুরু হয়েছে। কৃষকরা বাধ্য হয়ে এসব কাঁচা ধান গরুকে খাওয়ানোর জন্য কেটে নিয়ে যাচ্ছে। 

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পাঁচগাছি ইউনিয়নের ধরলা নদীর অববাহিকার উত্তর নওয়াবস গ্রামের মাসু মিয়া বলেন, সেই কার্তিক মাসে ঠাণ্ডায় খুবই কষ্ট করে ধান লাগাইছি। এ মৌসুমে তো সে ধান হলো না। কি যে হবে বুঝতে পারছি না। 


একই গ্রামের তালেব আলী নামের আরেক বোরো ধান চাষি বলেন, আমার আড়াই বিঘা জমির ধান পানির নিচে। আমি এ জীবনে দেখি নাই যে চৈত্র মাসে এত পানি হয়। খড় পাওয়ার আসায় কোমর পানির নিচের ধান কাটছি। ধান তো নাই নাই, খড়ও পচে গেছে। 

এদিকে ধরলা, তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্রসহ ১৬টি নদনদীর বুকে জেগে ওঠা চরে বোরো ধানের আবাদ করেছে এখানকার কৃষকরা। কিন্তু কয়েকদিনের টানা বৃষ্টির ফলে বোরো আবাদ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন বিভিন্ন নদনদী অববাহিকার কৃষকরা। গত কয়েকদিনের ভারি বৃষ্টি কারণে নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রায় ১৫ দিন ধরো তলিয়ে আছে আধা পাকা ধান। 


বুধবার (২০ এপ্রিল) সরেজমিনে দেখা যায়, ধরলা, তিস্তা ও বৃহ্মপুত্র নদের অববাহিকার কৃষকরা হাঁটু পানি কোথাও কোমর অব্দি পানিতে নেমে আধকাঁচা পচা ধান কাটছে তারা। বোরো ধানের ফসল ঘরে তোলার স্বপ্ন দেখলেও ভারি বৃষ্টিতে বোরো চাষিদের সেই স্বপ্ন ভেসেঁ গেছে। 

কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মঞ্জুরুল হক জানান, নদনদীর চরে বারো'শ হেক্টর জমিতে বোরোর আবাদ হয়েছে। কতটুকু পানির নীচে তলিয়ে আছে তার হিসেব এখনও পাইনি। 


বৃষ্টিপাতে পানি বাড়লেও উঁচু এলাকায় বোরো আবাদে তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি বলেও জানান তিনি। 


একাত্তর/জো