সিলেটে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। মহানগরীর পানি নিষ্কাশনের ৫২৩ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন সত্ত্বেও এবার ডুবে গেছে নগরীর বেশিরভাগ এলাকা।
এ ছাড়া প্লাবিত হওয়া সীমান্তবর্তী গোয়াইনঘাট, কানাইঘাট, জৈন্তাপুর, জকিগঞ্জ, কোম্পানীগঞ্জ ও সিলেট সদর উপজেলার নিম্নাঞ্চলেও পানি বাড়ছে।
সিলেট ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয় জানিয়েছে, জেলার পাঁচটি উপজেলা এবং সিলেট মহানগরী এলাকার অন্তত ১২ থেকে ১৩ লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে বন্যা আক্রান্ত হয়েছেন।
সিলেট শহরের বন্যা পরিস্থিতিতে ক্ষোভ জানিয়েছেন নগরবাসী। আর সিটি কর্পোরেশন বলছে, সুরমা নদীর পানি ধারণ ক্ষমতা না বাড়ালে বন্যা ঠেকানো সম্ভব নয়।
নদী আর মহানগরীর লোকালয় সব পানিতে একাকার। সিলেট নগরীর নিচু এলাকার অধিকাংশ বাসা-বাড়িতে এখন কোমর পানি। এই পরিস্থিতিতে চরম দুর্ভোগে আছে মানুষজন।
শাহজালাল উপশহর, সোবহানীঘাট, কালীঘাট, চাঁদনীঘাট, ছড়ারপাড়, তালতলা, কলাপাড়া, মজুমদারপাড়া, মাছিমপুরসহ বিভিন্ন এলাকার রাস্তাঘাট ও বাড়িঘরও পানিতে তলিয়ে গেছে।
বন্যার পানিতে ডুবেছে দোকানপাট। বাসিন্দারা বলছেন, সুরমা নদীর এমন আগ্রাসী রূপ খুবই কমই দেখেছেন তারা। এতো উন্নয়ন প্রকল্প, তারপরও কেন এ দুর্দশা- এ প্রশ্ন নগরবাসীর।
সরেজমিনে সিলেট শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, হাঁটুপানি মাড়িয়ে চলাচল করছেন সিলেট নগরীর অধিকাংশ এলাকার মানুষ।
অনেক রাস্তাঘাটে পানি ওঠায় বন্ধ হয়ে যায় যান চলাচল। কিছু রাস্তায় যানবাহন চলাচল করলেও পানি ঢুকে বিকল হয়ে পড়ে।
সিটি কর্পোরেশনের দাবি, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে নানা পদক্ষেপ নেয়ায় ৬০-৭০ ভাগ জলজট দূর হয়েছে। এখন যেটি হচ্ছে তা জলাবদ্ধতা নয়- অতিবৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলের প্রভাব।
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে বন্যার পানি রোধে নতুন প্রকল্পের কথাও ভাবা হচ্ছে।
সিলেট মহানগরীর অবকাঠামোগত উন্নয়নে সরকারের বিশেষ বরাদ্দে ১,২০০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প চলছে। এরমধ্যে শুধু ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে ব্যয় হচ্ছে ৫২৩ কোটি টাকা। উল্লেখ্য, গত ১২ মে থেকে ঘূর্ণিঝড় 'অশনি'র প্রভাবে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে এবং ভারতের মেঘালয় ও আসাম প্রদেশে মুষলধারে বৃষ্টিপাত হলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
বন্যা পূর্বাভাস ও পুনর্বাসন কেন্দ্র জানিয়েছে, বুধবার থেকে পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করবে। বন্যার পানি ধীরে ধীরে কমবে।
একাত্তর/এসি