নওগাঁয় গত দুই দিনের ঝড়ের তান্ডবে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে প্রায় শতাধিক বাড়ি। এ ছাড়াও আম, ধান, পাট ও বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন গ্রামে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে ও শুক্রবার রাতে ব্যাপক ঝড় শুরু হয়। শনিবার বিকেল সাড়ে ৪ টা পর্যন্ত জেলার রাণীনগর, পোরশা, আত্রাই, সাপাহার, পত্নীতলাসহ বিভিন্ন উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। তবে বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহে কাজ করে যাচ্ছে।
জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার রাতে ও শুক্রবার ভোর রাতে নওগাঁর উপর দিয়ে বয়ে যায় কাল বৈশাখীঝড়। ফলে রাণীনগর, আত্রাই, সাপাহার, পোরশা, পত্নীতলাসহ ১১টি উপজেলায় শতাধিক ঘর বাড়ি ও আম, ধান, গাছ, বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন গ্রামে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ঝড়ে ঘরের টিন উড়ে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্থ্যরা খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন। বিভিন্ন উপজেলার বৈদ্যুতিক পোল ভেঙ্গে যাওয়ায় বিদ্যুৎ না থাকায় চরম বিপাকে পরেছেন গ্রাহকরা।
রাণীগরের হাড়াইল হিন্দুপাড়া গ্রামের রাখাল চন্দ্র জানান, ১০ থেকে ১৫ মিনিটের ঝড়ে আমার একতলা বাড়ি টিনের চালা পুরোটাই উড়ে গিয়ে সম্পর্ন টিন নষ্ট হয়ে গেছে। পরিবার নিয়ে অন্যের বাড়িতে থেকে ঘর বাড়ি ঠিক করা শুরু করেছি। তিনি জানান, শুধু আমার বাড়ি না গ্রামের অনেকের ঘর বাড়ি এভাবে ঝড়ে নষ্ট হয়েছে। আমরা খেটে খাওয়া মানুষ, বাড়িতে খাবারের কিছু নেই।
এরপরেও এখন পর্যন্ত কেউ আমাদের কোন খোঁজ খবরও নেননি। ক্ষতিগ্রস্ত কামতা গ্রামের আব্দুল মজিদ জানান, ঝড়ে আমার বাড়ির সব টিন উড়ে গেছে। এছাড়া বাড়ির প্রাচীর ও গরুর ঘরের চাল উড়ে যায় গিয়ে লন্ডভন্ড হয়ে যায়।
পোরাশার নিতপুর সুহাতি গ্রামের কৃষক মজিবর রহমান মাস্টার বলেন, তার ধান ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বেশির ভাগ ধান তলিয়ে গেছে। তার প্রায় লক্ষাধীক টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি জানান। ঘাটনগর ইউনিয়নের বাঙ্গাবাড়ি গ্রামের আম বাগানের মালিক মোখলেছুর রহমান বলেন, বাগানের প্রায় সব আম ঝরে গেছে। আর সপ্তাহ খানেক পরে তিনি গাছ থেকে আম নামাতেন কিন্তু ঝড়ের কারনে তার ব্যাপক ক্ষতি হয়ে গেল বলে তিনি জানান। পোরশা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার সরকার জানান, ঝড়ে আম ও ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তবে শতকরা ৫ থেকে ১০ ভাগ আম ঝরে গেছে বলে তিনি জানান। আর আগে থেকেই ১০ হেক্টর জমির ধান পানিতে তলিয়ে গিয়েছিল। আরও কিছু ক্ষতি হতে পারে বলে তিনি জানান। তবে তাৎক্ষণিক ফসলের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করা যায়নি।
সাপাহার উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান জানান, সাপাহারে ৯ হাজার ২শ’ ৫০ হেক্টর জমিতে আম চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭ হাজার ৮শ’ ৫৫ হেক্টর জমির আম ক্ষতিগ্রস্থ্য হয়েছে। তাৎক্ষণিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে প্রায় ৫ ভাগ আম ঝড়ে গেছে।
রাণীনগর উপজেলা নিবাহী কর্মকর্তা শাহাদত হুসেইন বলেন, ঝড়ের তান্ডবে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করা হচ্ছে। তবে কি পরিমান ক্ষতি হয়েছে তা এখনো নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি। ক্ষতিগ্রস্তদের খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে। পরবর্তীতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বুঝে নগদ অর্থ ও টিন দেওয়ার উদ্দ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শামছুল ওয়াদুদ জানান, গত দুই দিনের ঝড়ে চলতি মৌসুমে জেলায় ৭ হাজার ৮শ’ ৫৫ হেক্টর জমির আম ক্ষতিগ্রস্থ্য হয়েছে। সবচেয়ে সাপাহারে সাড়ে ৩৫শ’ হেক্টর, পত্নীতলায় ২২শ’ ৫০ হেক্টর, পোরশায় ১৫শ’ ৫০ হেক্টর জমিতে আম ক্ষতিগ্রস্থ্য হয়েছে। এ ছাড়াও কলা ৫০ হেক্টর, পাট ৫০ হেক্টরসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষতি হয়েছে।
নওগাঁ জেলা প্রশাসক খালিদ মেহেদী হাসান জানান, জেলার ১১টি উপজেলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তালিকা দ্রুত তৈরী করার জন্যে উপজেলা প্রশাসন ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তালিকা পেলে দ্রুত তাদের সহযোগিতা দেওয়া হবে।
একাত্তর/এসএ