কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আরফানুল হক রিফাত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কুর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনেছেন। তিনি হুশিয়ারি দিয়েছেন, প্রয়োজনে সাক্কুর দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হবে।
জবাবে দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করে সাবেক মেয়র ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কুকে বলেছেন, তিনি কোনো দুর্নীতি করেননি। দুর্নীতি হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান কেন ব্যবস্থা নিলো না সেই প্রশ্নও রাখেন তিনি।
এদিকে, কুসিক নির্বাচনের প্রচারে বেশিরভাগ প্রার্থীর বিরুদ্ধে আচরণবিধি ভাঙার অভিযোগ আসছে। এরই মধ্যে একজনকে সতর্ক করেছে ইসি।
রোববার (২৯ মে) সন্ধ্যায় প্রথমবারের মতো প্রচারণায় নামেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী আরফানুল হক রিফাত। প্রথম দিনে তিনি যান নগরীর দুই নম্বর ওয়ার্ডের ছোটরা এলাকায়।
এসময় তিনি, আগের মেয়রের নানা অনিয়মের অভিযোগ তোলেন। সেই সঙ্গে এবার মেয়র নির্বাচিত হলে নগর ভবনকে 'দুর্নীতিমুক্ত' করারও ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
রিফাত বলেন, সিটি কর্পোরেশনকে দলীয় কার্যালয় না বানিয়ে কুমিল্লার মানুষের কার্যালয় বানানো হবে। দীর্ঘদিনের সমস্যা জলাবদ্ধতা ও যানজট নিরসনে প্রাণপণ চেষ্টা করা হবে।
ব্যক্তিগত সমর্থক বিএনপি কর্মীদের নিয়েই প্রচার চালাচ্ছেন দল থেকে বহিষ্কৃত সদ্য সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কু । এ সময় তিনি, আওয়ামী লীগ প্রার্থীর অভিযোগ অস্বীকার করেন।
তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগ, দুদকসহ বিভিন্ন সংস্থা রয়েছে। তারাও তো অনেক তদন্ত করেছে; দুর্নীতি হয়ে থাকলে তারা ব্যবস্থা নিলো না কেন?
প্রথম দু’দিন দীর্ঘ মিছিল করে জরিমানা ও শোকজের পর নগরীর ১৯ নম্বর নেউড়া বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেন বিএনপি'র আরেক বহিষ্কৃত নেতা নিজাম উদ্দিন কায়সার।
আরও পড়ুন: গাঁজা দিয়ে কেক-চকলেট-মিল্কসেক তৈরি, তরুণীসহ আটক তিন
পাশাপাশি সকাল থেকে নগরীতে অন্যান্য মেয়র এবং কাউন্সিলর প্রার্থীরা কর্মী সমর্থকদের নিয়ে প্রচার চালাচ্ছেন। আচরণবিধি না মানায় দুই মেয়র প্রার্থীকে জরিমানা করা হয়েছে।
রিটার্নিং কর্মকর্তা শাহেদুন্নবী চৌধুরী জানান, আচরণবিধি মেনে চলার জন্য আইনের কঠোর প্রয়োগ করা হবে। এ পর্যন্ত নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
কুমিল্লার পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ জানান, পুলিশের নিয়মিত টহলের পাশাপাশি ২১টি বিশেষ ভ্রাম্যমাণ টিম নগরীতে কাজ করছে। ১৫টি স্থায়ী চেকপোস্ট বসানো হয়েছে।
এ ছাড়া সাদা পোশাকে নগরীর স্পর্শকাতর স্থানসহ বিভিন্ন স্থানে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। অন্যদিকে জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে ৯টি ভ্রাম্যমাণ টিম ও বিজিবির টহল অব্যাহত আছে।
একাত্তর/এসজে