বিএনপির অনুষ্ঠানে ছাত্রলীগের হামলা, একাত্তরের সাংবাদিক আহত

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের বাংলাবাজারে জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণকালে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর যুবলীগের হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এসময় দায়িত্ব পালনরত একাত্তর টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি মিজানুর রহমানকে লাঞ্ছিত করা হয়। হামলাকারীরা তার মোবাইল ছিনিয়ে নেয়। এসময় আরও কয়েকজন আহত হবার খবর পাওয়া গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

বুধবার (১ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বেগমগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের বাংলাবাজারে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

জেলা যুবদলের সভাপতি মঞ্জুরুল আজিম সুমন জানান, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সকাল থেকে বেগমগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ কর্মসূচি পালন করি আমরা। তারই ধারাবাহিকতায় প্রথমে জমিদারহাট এলাকায় আয়োজিত কর্মসূচিতে বাধা দেয় আওয়ামী লীগ। পরে চৌমুহনী পূর্ব বাজারে আয়োজন করা হয় সেখানে যুবলীগ ও ছাত্রলীগ বাধা দেয় এবং ককটেল বিস্ফোরণ করে।

তিনি আরও বলেন, সাড়ে ১১টার দিকে বাংলাবাজার এলাকায় খাবার বিতরণ কর্মসূচি গ্রহণ করা হলে সেখানে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্যাহ বুলু উপস্থিত ছিলেন। কর্মসূচি শুরুর সাথে সাথে স্থানীয় যুবলীগের নেতাকর্মীরা লাঠিসোটা নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে ও কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ করে আমাদের কর্মসূচিতে হামলা চালায়। এতে আমাদের কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছে।

লাঞ্ছিত সাংবাদিক মিজানুর রহমান জানান, হামলাকারীরা তার মোবাইল সেট নিয়ে হামলার সময় ধারণ করা সব ভিডিও ডিলিট করে দেয়। মোবাইল নেয়ার দুই ঘন্টা পর তাকে মোবাইল ফেরত দেয়। 

এ ঘটনায় জেলা কর্মরত সাংবাদিকরা নিন্দা জানিয়েছেন।

বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর জাহেদুল হক রনি জানান, বিএনপি নেতারা স্থানীয় একজনের কবর জেয়ারত করার সময় ছাত্রলীগ-যুবলীগের মিছিলে মুখোমুখি হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে উভয় দলের লোকজনকে সরিয়ে দেয়। 

এই ঘটনায় বেগমগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন একাত্তর টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি মিজানুর রহমান। তার অভিযোগ আমলে নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। 


একাত্তর/এআর