সীতাকুণ্ডের আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও পুরোপুরি নেভেনি

চট্টগ্রামের অদূরে সীতাকুণ্ডে বিএম কনটেইনার ডিপোতে দ্বিতীয় দিনের মতো আগুন নেভানোর পাশাপাশি চলছে উদ্ধার তৎপরতা। আগুন নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এখনো পুরোপুরি নেভেনি।

সকাল থেকে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেছে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। ঘটনাস্থলে কাজ করছে সেনাবাহিনীও। কিন্তু এখনো আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।

সোমবার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ডিপোর ভিতরে আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৯টি ইউনিট কাজ করছে বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের চট্টগ্রামের উপ-পরিচালক আনিসুর রহমান।

ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, বিএম ডিপোর পশ্চিম পাশের কয়েকটি কনটেইনারে আগুন জ্বলছে। তাছাড়া আশপাশের আরও কয়েকটি কনটেইনার থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা বিশেষ যন্ত্রের সাহায্যে ওপর থেকে এসব কনটেইনারে পানি ছিটাচ্ছে। রাসায়নিক মিশ্রিত পানি যাতে সমুদ্রে ছড়িয়ে না পড়ে সে জন্য সেনা সদস্যরা কাজ করছে। 

কিছুক্ষণ পরপর বাজছে সাইরেন। একটি গাড়ির পানি শেষ হলে আরেকটি পাঠানো হচ্ছে। ডিপোর প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান করছে পুলিশের একটি দল। আছে কড়া নিরাপত্তা।


ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মনির হোসেন বলেন, এখনো আগুন নেভানোর কাজ চলছে। পুরোপুরি নেভাতে সময় লাগবে। বিভিন্ন কনটেইনারে আগুন জ্বলছে, ধোঁয়া বের হচ্ছে।

তিনি জানান, সাবধানতার সঙ্গে আগুন নেভানোর জন্য পানি ছিটানো হচ্ছে। আর যেসব কনটেইনার আগুনে ক্ষতি হয়নি সেগুলো নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। 

তিনি আরও জানান, বিএম কনটেইনার ডিপোটিতে আগুন নেভানোর কোনো ব্যবস্থাই ছিলো না। সেটি থাকলে ভয়াবহতা অনেক কমানো যেতো বলেও মনে করেন এই ফায়ার ফাইটার। 

সোমবার কনটেইনার ডিপোতে নতুন করে কোন মরদেহ খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে তল্লাশি বন্ধ করেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। আগুন পুরোপুরি নিভে গেলে তল্লাশি আর জোরদার হবে। 

কনটেইনার ডিপোতে বিস্ফোরণের ঘটনার পর থেকে আতঙ্কে আছেন স্থানীয় লোকজন। আবার বিস্ফোরণ হতে পারে- এমন আতঙ্কে অনেকেই এলাকা ছাড়ছেন।

শনিবার রাত ৯টার দিকে সীতাকুণ্ড উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের কেশবপুর গ্রামে বেসরকারি ওই কন্টেইনার ডিপোতে আগুন লাগে।


আরও পড়ুন: সীতাকুণ্ডে আগুন: ২২ জনের মরদেহ পেলো পরিবার

সেখানে থাকা রাসায়নিকের কন্টেইনারে একের পর এক বিকট বিস্ফোরণ ঘটতে থাকলে আগুন ভয়ঙ্কর মাত্রা পায়। রোববার দিনভর চেষ্টা চালিয়েও তা নেভানো যায়নি পুরোপুরি।

এ ঘটনায় রোববার রাত পর্যন্ত ৪৯ জনের মৃত্যু এবং দুই শতাধিক মানুষের আহত হওয়ার খবর জানিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। নিহতদের মধ্যে নয়জনই ফায়ার সার্ভিসের কর্মী।



একাত্তর/এসি