সীতাকুণ্ডে এখনো ধোঁয়া, ছিলো না আগুন নেভানোর ব্যবস্থা

এখনও পুরোপুরি নেভেনি চট্টগ্রামের বিএম কনটেইনার ডিপোর আগুন। টিমটিমে আলোয় জ্বলছে দুইটি কনটেইনার। নিরাপদ দূরত্বে নেয়া হয়েছে চারটি হাইড্রোজেন পার অক্সাইডের কন্টেইনার।

এমন আরও ঝুঁকিপূর্ণ কনটেইনার আছে কিনা তা নিশ্চিত নয় কেউই। ফায়ার সার্ভিস বলছে, সীতাকুণ্ডের এই ডিপোতে আগুন নেভানো বা পানি সরবরাহের কোন ব্যবস্থা ছিলো না।

সীতাকুণ্ডের শীতলপুরে বেসরকারি বিএম কনটেইনার ডিপোতে আগুনের পর পেরিয়ে গেছে প্রায় তিন। সোমবারও বিকেলেও ডিপো এলাকার বিভিন্ন স্থানে জ্বলছিলো টিমটিমে আগুন।

বেশ কিছু কনটেইনার থেকে থেমে থেমে বের হচ্ছিলো ধোঁয়ার কুণ্ডলী। ডিপো সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বেশিরভাগ কনটেইনারেই ছিলো রপ্তানির জন্য প্রস্তুত তৈরি পোশাক।

সোমবার (৬ জুন) সকাল থেকেই ফায়ার সার্ভিসের ইউনিটগুলোর সাথে জোরে সোরে তদন্ত কাজে নামে সেনাবাহিনী ও নৌ-বাহিনীর বিশেষজ্ঞ দল। ব্যবহার করা হয় আধুনিক যন্ত্রপাতি।

চট্টগ্রামর ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, কনটেইনার ডিপোতে পণ্য গুদামজাতকরণ নীতিমালা মানা হয় নি। ছিলো না আগুন নেভানোর কোনো ব্যবস্থাও।

চট্টগ্রামের ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মনির হোসেন জানান, সোমবার সকালের দিকেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা গেছে। 

তিনি বলেন, এখন আর আগুন নেই, তবে নানারকম জিনিসপত্র পোড়ার কারণে ধোঁয়া থাকতে পারে। আমরা এখন সেটা নেভানোর কাজ করছি।

এই কর্মকর্তা আরো জানান, ধোঁয়া বন্ধ করার ডিপোর মধ্যে তল্লাশি শুরু হবে। তখন আর কোন মরদেহ আছে কিনা, ক্ষয়ক্ষতি কীভাবে হয়েছে বা আগুন কীভাবে লেগেছে, ইত্যাদি জানা যাবে।

সেনাবাহিনীর ২৪ পদাতিক ডিভিশনের ১৮ ব্রিগেডের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফুল ইসলাম হিমেল বলেন, ডিপোতে ফায়ার সেফটি সিস্টেম নেই, হাইড্রেন্ট ব্যবস্থাও ছিল না।

তিনি জানান, বিস্ফোরণের ঘটনায় রাসায়নিক পদার্থ থাকা চারটি কনটেইনার চিহ্নিত করেছেন তারা। সেগুলো বিশেষ পদ্ধতিতে নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

এই সেনা কর্মকর্তা আরও জানান, ডিপোর ভেতরে এখনো কালো ধোঁয়া থাকায় সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করতে কাজ করে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন: ফেসবুকে লাইভ করা সেই নয়নের বাড়িতে মাতম

ডিপোতে কি পরিমাণ ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ আছে তারও কোন সঠিক তথ্য নেই ডিপোর কর্তাব্যক্তিদের কাছেও।

উদ্ধার কাজের সাথে সম্পৃক্ত কর্মকর্তারা জানান ডিপোটিকে সম্পূর্ণ নিরাপদ না করা পর্যন্ত তাদের উদ্ধার কাজ চলবে।

একাত্তর/আরএ