এখনও অনলাইনে রেলের টিকেট পায়না নীলফামারীর মানুষ

দেশের অধিকাংশ রেলওয়ে স্টেশন ডিজিটাল হলেও এখনও সেই ছোঁয়া লাগেনি নীলফামারী জেলা শহরের স্টেশনে। এখানকার মানুষের ভরসা স্টেশনে গিয়ে সেই হাতে লেখা টিকেট। আধুনিকায়নের এই সময়েও এমন অবস্থায় বিরক্ত জেলা শহরের বাসিন্দারা।

নীলফামারী রেলওয়ে স্টেশন সূত্র জানায়, চিলাহাটি রেলওয়ে স্টেশন থেকে জেলা শহরের নীলফামারী স্টেশন হয়ে রাজশাহী রেলপথে আন্তঃনগর তিতুমীর ও বরেন্দ্র এক্সপ্রেস, খুলনা রেলপথে সীমান্ত ও রূপসা এক্সপ্রেস, খুলনা মেইল এবং ঢাকা রেল পথে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেন নিয়মিত চলাচল করছে। এসব ট্রেনে প্রতিদিন অন্তত পাঁচ শতাধিক যাত্রীকে টিকেট দেওয়া হয়। 

এদিকে নীলফামারী রেলওয়ে স্টেশনটি জেলার অতি গুরুত্বপূর্ণ হলেও এই স্টেশনের যাত্রীরা পাচ্ছেন সেই আদিকালের টিকেটিং সেবা। জেলার সৈয়দপুর ও চিলাহাটি স্টেশনে অনলাইন ব্যবস্থা চালু করা হলেও জেলা শহরের যাত্রীরা এখনও স্টেশনে গিয়ে হাতে লেখা টিকিটে যাত্রীসেবা পাচ্ছেন। 

নীলফামারী শহরের ব্যবসায়ী ওয়ালিউর রহমান বলেন, আমাদের সময় এবং অর্থের অপচয় হচ্ছে। কোনো কারণে আসতে দেরি হলে টিকেট পাওয়া যায় না। আবার টিকেট পেলেও একই আসনের টিকেট দুইবার বিক্রি হওয়ায় বিড়ম্বনায় পড়েছি একাধিকবার।

রোববার দুপুরে নীলফামারী রেলওয়ে স্টেশনে এসেছিলেন জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলা আব্দুর রউফ। তিনি বলেন, আগামীকাল (১৩ জুন) সোমবার ঢাকা যাবো। কাউন্টারের এসে দেখি অনেক বড়ো লাইন। প্রায় দুই ঘণ্টা অপেক্ষার পর টিকেট পেয়েছি। 

টিকিট নিতে ওই স্টেশনের কাউন্টারের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা জেলা শহরে আবুল হোসেন বলেন, নীলফামারী স্টেশন সবসময় উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত। এখানে শুধু অনলাইন ব্যবস্থা নয়, অনেক সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। 

নীলফামারী উন্নয়ন ফোরামের আহবায়ক আব্দুল ওয়াহেদ সরকার বলেন, আমরা দ্রুত আধুনিক টিকেটিং ব্যবস্থা চালুর দাবি জানাচ্ছি।


নীলফামারী চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি সফিকুল আলম ডাবলু বলেন, এ  জেলা থেকে রাজশাহী, খুলনা, ঢাকাসহ কয়েকটি আন্তঃনগর ট্রেনসহ ভারতের নিউ জলপাইগুড়ি পর্যন্ত অন্তর্দেশীয় মিতালী এক্সপ্রেস ট্রেন চালু রয়েছে। জেলার ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নয়নে নীলফামারী রেলওয়ে স্টেশনটির গুরুত্ব অনেক বেশি। কিন্তু স্টেশনটির সেবার মানের কোনো পরিবর্তন হয়নি। 

বাংলাদশে রেলওয়ে নীলফামারী স্টেশন টিকিট কাউন্টারের বুকিং সহকারী শামীম হোসেন বলেন, একটি টিকিট হাত লিখতে অনেক সময় লেগে যায়। এতে যাত্রীরা বিরক্ত হন। যখন দীর্ঘ লাইন জমে তখন তাড়াহুড়া করে টিকিট লিখতে গিয়ে অনেক সময় এক আসনের টিকেট দুইবার লেখা হয়ে যায়। 

আরও পড়ুন: ‘২৬ জুন সকাল ছয়টা থেকে পদ্মাসেতুতে গাড়ি চলবে’

বাংলাদেশ রেলওয়ে নীলফামারী স্টেশনের স্টেশন মাস্টার ওবাইদুল ইসলাম রতন বলেন, অনলাইন ব্যবস্থা থাকলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হবে না। অবিক্রিত টিকেট সার্ভারে দেখা যায়। স্টেশনে অনলাইন চালু হলে যেকোনো স্থান থেকে টিকেট কেনার সুযোগ পাবেন যাত্রীরা।

বাংলাদেশ রেলওয়ে প্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক (পশ্চিমাঞ্চল) আহসান উল্লাহ ভুঁইয়া বলেন, অনলাইন সিস্টেম না থাকা স্টেশনগুলোতে পর্যায়ক্রমে চালুর কাজ শুরু করা হয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যে নীলফামারী রেলওয়ে স্টেশনে অনলাইন সিস্টেম চালু করা হবে।


একাত্তর/এসি