পদ্মা পাড়ে উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি পেশা বদলের চিন্তা

পদ্মা বহুমুখী সেতু চালু হবার পর মাওয়া ও জাজিরা ঘাটে থেমে যাবে হাজারও যাত্রীর কোলাহল। যে কারণে বন্ধ হতে পারে লঞ্চ, স্পিড বোট আর দুই পাড়ের হোটেল রেস্তোরাঁর জমাট ব্যবসা।

তারপরও পদ্মা সেতু চালু হবার তুলনায় নিজেদের এই ক্ষতিটুকুকে খুব কম বলেই মনে করছেন দুই পাড়ের ব্যবসায়ীরা। অনেকেই বিকল্প পথ খুঁজে নেয়ার কথাও জানিয়েছেন।

তাদের আশা পদ্মা সেতুকে ঘিরে গড়ে ওঠা বহুমুখী কর্মযজ্ঞে তাদেরও কাজের সংস্থান হবে। তাই সময়ের ওপরেই আপাতত সব ছেড়ে দিতে চান তারা। 


ত্রিশ বছর ধরে লঞ্চ চালান শেখ দানেস। একই লঞ্চের খালাসী সেকান্দার বেপারী। এ ছাড়া আর কোন কাজ জানে না তারা। কিন্তু ২৫ জুন পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর কি হবে সে ভাবনায় তারা।

তারা বলেন, সেতু চালু হওয়ার খবর আনন্দের। এই সেতুর কারণেই পদ্মাপাড়ে এতো উন্নয়ন। রাস্তা-ঘাট হওয়ায় ঘরে যেতে আর কাদাপানি মাড়াতে হবে না। 

তবে সেতু চালু হলে আমাদের ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে। ঘাটের ওপর নির্ভর করে যুগযুগ ধরে চলা এই ব্যবসা হঠাৎ করেই থেমে যাবে। আর এটাই বাস্তবতা।

কিছুটা মন খারাপ হলেও সেতু চালু আনন্দের বিষয়। বিকল্প পেশা নিয়ে ভাবনা-চিন্তা চলছে। তবে ঘাটের মতো এতটা ভালো হবে কিনা তা জানা নেই বলেও জানান, পদ্মা পাড়ের ব্যবসায়ীরা। 

শিমুলিয়া, বাংলাবাজার ও মাঝির ঘাট। এ তিন ঘাটে চলে ৮৭টি লঞ্চ, শতাধিক স্পিড বোট। আর দু’পাড়ে যাত্রী পারাপার করে আরও ৫০টি বোট। তাদের ভাবনাতেও আগামীর দিন নিয়ে। 


স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিমত, শিবচরের বাংলাবাজার ঘাটেরও গুরুত্ব হারিয়ে যাবে। কেউ আর এই পথে আসবে না সচরাচর।

সেতু চালু হলে যাত্রীরা আর নৌপথে যাতায়াত করবে না এমন শঙ্কায় জামালপুরের বাহাদুরাবাদ, রংপুরের চিলমারী টু রোমানিয়া এবং দোহারের মঈনুল ঘাটে লঞ্চ চালাতে চান মালিকরা। 

তবে এখনও কোন সিদ্ধান্ত জানায়নি সরকার। তবে ভারী যানবাহন চলাচলের জন্য একটি ফেরি চালু রাখার সিদ্ধান্ত আছে। ফলে ঘাট এখনই পুরোপুরি বন্ধ করা হচ্ছে না। 

এদিকে তিনটি ঘাটে আছে শতাধিক হোটেল, ক্ষুদ্র দোকানি, ফেরিওয়ালা কুলি, অটোচালকসহ নানা পেশার মানুষ। তারাও জানান, সেতু চালু হওয়াতেই খুশি তারা। 


আরও পড়ুন: গাড়ি ভাঙচুর করা ছাত্রলীগ নেতাকে বহিষ্কারের সুপারিশ

কাজ হারানোর ঝুঁকি আর পেশা বদলের সম্ভাবনাকে তারা সহজভাবেই নিচ্ছেন। তারা জানান, এমনও হতে পারে স্থান বদলে যেতে পারে, তবে পেশা টিকে থাকবে। 

তবে সেতুর ওপর বাস চলাচল শুরু হলে দুই পাড়ের বাস টার্মিনালে ঘাটের বেকার হওয়া দোকানীদের জায়গা বরাদ্দ দেয়ার দাবি করেছেন তারা।


একাত্তর/এসি