কুমিল্লা সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ কোনো প্রভাব বিস্তার করবে না উল্লেখ করে মেয়র পদে নৌকার প্রার্থী আরফানুল হক রিফাত বলেছেন, বিএনপির বহিষ্কৃত দুই প্রার্থীর মধ্যে কোন্দলের কারণে ভোটের দিনের পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কিত তিনি।
অন্যদিকে, সাবেক মেয়র ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু জানান, জয়-পরাজয় যাই হোক, ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে যাবার নিশ্চয়তা দিতে হবে। তিনি জানান, কোন প্রার্থীর সঙ্গে তার ব্যক্তিগত কোন কোন্দল নেই। সবাই তাকেই ভোট দেবে।
ভোটের আগের দিন মঙ্গলবার কুমিল্লা জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে রিফাত সাংবাদিকদের কাছে বলেন, কুমিল্লা শহরের মানুষ পরিবর্তন চায়। তারা দুর্নীতিমুক্ত একটি নতুন মুখ চায়। এ জন্য কুমিল্লা শহরের মানুষ তাকে ভোট দেবে।
কুমিল্লা পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রিফাত আরও বলেন, গত ১০ বছরে সিটি করপোরেশন অফিস দুর্নীতিবাজদের আস্তানায় পরিণত হয়েছে এবং নগরবাসীর দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। অফিসে পরিবর্তন ছাড়া দুর্ভোগ নিরসনের আর কোনো উপায় নেই।
নির্বাচনের পরিবেশ সম্পর্কে রিফাত বলেন, পরিস্থিতি খুবই ভালো ও শান্তিপূর্ণ। মানুষ উৎসবের আমেজে নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রে যাবেন। আমি সব প্রার্থীর কাছে অনুরোধ ভোটের দিন শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখুন, যাতে নির্ভয়ে ভোট দিতে পারে সবাই।
এদিকে, মঙ্গলবার দুপুরে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপের সময় বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নেতা ও মেয়র প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু আশাবাদ জানিয়ে বলেন, এবারের নির্বাচনে তিনি দ্বিগুণ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হতে যাচ্ছেন।
জনগণ ভোটের জন্য উদগ্রীব হয়ে আছে জানিয়ে মনিরুল হক সাক্কু বলেন, ভোটাররা সবাই ভোটের জন্য উদগ্রীব হয়ে আছেন। ইভিএম বা অন্য কোনো সমস্যা নয়, ভোট দিতে পারবে কিনা এমন আশঙ্কাই করছেন সবাই।
তিনি বলেন, ভোটার যাকে খুশি ভোট দিকে। তাই ভোটাররা যাতে কেন্দ্রে যেতে পারে সেই ব্যবস্থা নেয়াার জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে অনুরোধ করছি। যাকেই দিক, ভোটাররা যেন এবার অন্তত নিজের ভোটটা দিতে পারে।
নির্বাচন কমিশনকে জনগণের আস্থা অর্জনের আহবান জানিয়ে সাক্কু বলেন, এখন পর্যন্ত ভোটের যে পরিবেশ তা সন্তোষজনক। আমি বারবারই বলছি- এবার আমাদের চেয়ে নির্বাচন কমিশনের ভাবমূর্তি রক্ষার বিষয়টি মূল।
তিনি আরও বলেন, এ কমিশনের অধীনে এটা প্রথম নির্বাচন। তারা যদি সুষ্ঠু নির্বাচন করতে না পারে, মানুষ কিন্তু বেকুব না। সবই বোঝে, কিছু বলে না এর মানে এই নয় যে, কিছু বোঝে না তা নয়। তাই আমি সিইসিকে বলব- জনগণের আস্থা অর্জন করুণ, নইলে থাকতে পারবেন না।
একাত্তর/এআর