সুনামগঞ্জে সড়ক বা আশ্রয়কেন্দ্রে সবখানেই দুর্বিষহ জীবন পার করছে বানভাসি মানুষ। আশ্রয় কেন্দ্রে জায়গার অভাব, তাই সড়কে আশ্রয় নিয়েছে হাজারো মানুষ।
ত্রাণ আর গোখাদ্যের তীব্র সংকট চলছে দুর্গত এলাকায়। বিপদের সময় কেউ খোঁজ নেননি বলেও অভিযোগ রয়েছে ভুক্তভোগীদের। তবে পাশে পাচ্ছেন সাধারণ মানুষদের।
সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতি সোমবারও প্রায় অপরিবর্তিত আছে। আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত মানুষের অনেকেই দিন কাটাচ্ছেন অর্ধাহার বা অনাহারে।
জেলার বিস্তীর্ণ এলাকার বন্যাদুর্গতদের জন্য ত্রাণের পর্যাপ্ত মজুত থাকলেও প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে তা ভুক্তভোগীদের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না বলে দাবি করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
ছাতক উপজেলার ছোট বিহাই গ্রামে গিয়ে দেখা গেলো বন্যায় ঘর নষ্ট হয়েছে একটি পরিবারের। পানি নামলেও কাদা আর স্যাঁতস্যাঁতে ঘরের মেঝে।
ছয় সন্তান নিয়ে তাই এখনও মাচার উপর বাস করছে গোটা পরিবার। আশ্রয়কেন্দ্রেও যাওয়ার কোন সুযোগ মেলেনি। তাই ত্রাণের ওপরই ভরসা এখন তাদের। যদিও তা মিলছে না।
যারা কোনো মতে ঘর ছেড়েছেন তাদের আশ্রয় হয়েছে উঁচু রাস্তায়। টং ঘরটি এখন শেষ ভরসা বানভাসি এক পরিবারের। সাতদিন ধরে টানা বৃষ্টি উপেক্ষা ছোট সেই ঘরেই আছেন তারা।
আর তিন সন্তান নিয়ে টিনের ছাপড়া ঘরে বাস ছাতকের রাউলি মোহাম্মদপুর গ্রামের আসমা বেগমের। বন্যায় ধান চালও ভেসে গেছে বানের পানিতে।
পানি কমলেও সহায়তা না পেলে বাড়িতে ওঠারও সুযোগ নেই। কারণ কিছুই আর অবশিষ্ট নেই ঘরের। নতুন করে আবারও সবকিছু শুরু করতে হবে, সেই চিন্তায় ঘুম নেই।
শত শত মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন সড়কের উপর। খেয়ে না খেয়ে একেকটি দিন পার করছেন তারা। যারা সড়কে ছাপড়া ঘর পাননি, পিকআপ ভ্যানে আশ্রয় নিয়েছেন তারা।
টং ঘরের পাশেই গবাদি পশুর ঘর। গাদাগাদি করে বাস সবার। দেখা দিয়েছে গোখাদ্যেরও সঙ্কট। অনেকেই আবার মরিয়া চেষ্টা করছেন আসবাবপত্র বাঁচানোর।
সরেজমিনে ছাতক উপজেলার ছোট বিহাই গ্রামের কবির আহমেদের বাড়িতে তৈরি করা অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে ঘুরে দেখা যায়, ৩৫০ মানুষ গাদাগাদি করে বসবাস করছেন সেখানে।
একেকটি কামরায় নারী, শিশু, বৃদ্ধ হাঁসফাঁস করছেন, ক্ষুধায় কাঁদছে শিশুরা। বাড়ির ছাদে গবাদি পশুদের রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে দোলার বাজার ইউনিয়নের, মঈনপুর জনতা মহাবিদ্যালয় ও মঈনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের তৈরি আশ্রয়কেন্দ্রে মানবেতর জীবন যাপন করছেন পাঁচ থেকে ছয়শ’ মানুষ।
এদিকে, সুনামগঞ্জে নৌকার জন্য হাহাকার চলছে। অতিরিক্ত টাকা দিয়েও মিলছে না নৌকা। এই সুযোগে অনেক নৌকার মাঝি এক হাজার টাকার নৌকা দশ হাজার টাকা পর্যন্ত ভাড়া হাঁকাচ্ছে।
একাত্তর/এআর