জামালপুরে পানিবন্দি ৬০ হাজার মানুষ, ৭৫ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ

উজানের পাহাড়ি ঢল ও ভারি বর্ষণে জামালপুরে যমুনা, পুরাতন ব্রহ্মপুত্র ও জিঞ্জিরামসহ অন্য নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত আছে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন জেলার বিভিন্ন উপজেলার অন্তত ৬০ হাজার মানুষ। এমন পরিস্থিতিতে ৭৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আপাতত বন্ধ করা হয়েছে। তলিয়ে গেছে নিম্নাঞ্চলের ফসলের মাঠ। বিশুদ্ধ খাবার পানি, শুকনো খাবার ও গো-খাদ্যের সঙ্কটও চরমে। সেই সঙ্গে বেড়েছে সাপের উপদ্রব।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনার পানি বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে আট সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৫৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বন্যায় জেলার ইসলামপুর, দেওয়ানগঞ্জ, বকশীগঞ্জ, সরিষাবাড়ী, মেলান্দহ ও মাদারগঞ্জ উপজেলার ৩২টি ইউনিয়নের দেড় শতাধিক গ্রামের নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করে অন্তত ৬০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। 


এদিকে বন্যার পানি সড়কের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় মেলান্দহ উপজেলার মাহমুদপুর থেকে  ইসলামপুর উপজেলার আমতলা সড়কে যানচলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

এছাড়াও মাদারগঞ্জ উপজেলার নতুন নির্মিত একটি সড়কের ২০০ মিটার বন্যার পানির স্রোতে ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকছে।

আরও পড়ুন: হেলিকপ্টারযোগে বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী

জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবু সাঈদ জানান, বন্যার পানি বৃদ্ধির হার ধীরে ধীরে কমে আসবে।

বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারিভাবে জেলার সাতটি উপজেলায় ৩৫০ মেট্রিক টন চাল ও নগদ সাত লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে ৮০টি মেডিক্যাল টিম, ৪৬১টি আশ্রয় কেন্দ্র ও চার হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার।


একাত্তর/এসি