কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। এর মধ্যে ধরলা নদীর পানি কমলেও বেড়েছে ব্রহ্মপুত্রে। বুধবার সন্ধ্যা ৬টায় সেতু পয়েন্টে ধরলা নদীর পানি বিপৎসীমার ৩৮ সে.মি.এবং চিলমারী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপৎসীমার ৪৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
বুধবার (২২ জুন) জেলা ত্রাণ ও পুণর্বাসন অফিস জানিয়েছে, জেলার ৪৯টি ইউনিয়নে ৩১৯টি ৩৫ হাজার ৪০০ পরিবারের এক লাখ ৪১ হাজার মানুষ এখন পানিবন্দী। নাগেশ্বরী উপজেলায় ৩টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৪০টি পরিবার আশ্রয় নেয়ার কথা বলা হলেও বিভিন্ন স্কুল, উঁচু স্থান, বাঁধ ও সড়কে আশ্রয় নিয়েছে কয়েক হাজার মানুষ।
এছাড়া, বন্যার পানিতে বন্দী প্রায় জেলার ৩২৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বন্ধ রয়েছে শিক্ষা কার্যক্রম। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ২৯৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ আছে। এর মধ্যে সদরে ১৮টি, ভুরুঙ্গামারীতে ৭টি, উলিপুরে ৫৮টি, চিলমারীতে ৩৮টি, নাগেশ্বরীতে ৭৯টি, ফুলবাড়ীতে ৬টি, রাজারহাটে ৩টি, রৌমারীতে ৬৮টি ও রাজীবপুরে ১৭টি প্রতিষ্ঠান এখন বন্ধ।
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শামসুল আলম জানান, জেলায় ২৪টি উচ্চ বিদ্যালয়, ৮টি মাদ্রাসা ও একটি কলেজ বন্যায় আক্রান্ত।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম জানান, ৯ উপজেলার বন্যা কবলিত মানুষের জন্য ৩শ ৩৮ মেট্রিক টন চাল, নগদ ১৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ১ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার, ১৮ লাখ ৯৫ হাজার টাকার শিশু খাদ্য ও ১৭ লাখ ৭৫ হাজার টাকা গো-খাদ্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। যা বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এদিকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, ভয়াবহ এই বন্যায় ১৫ হাজার ২০০ হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পাঁচগাছী ইউনিয়নের (ইউপি) চেয়ারম্যান আব্দুল বাতেন সরকার বলেন, ‘সরকারি ভাবে আমার ইউনিয়নের জন্য চার টন চাল পেয়েছি, তা বুধবার ১০ কেজি করে বিতরণ করা হয়েছে। যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। অনেক বানভাসি মানুষকে দেয়া সম্ভব হয়নি’।
একাত্তর/ এনএ