কুড়িগ্রামে বন্যার পানি কমলেও দুর্ভোগ কমেনি বানভাসিদের

কুড়িগ্রামে নদ-নদীর পানি হ্রাস পেতে শুরু করলেও দুর্ভোগ কমেনি বানভাসিদের। ব্রহ্মপুত্র ও ধরলার পানি এখনও বিপৎসীমার ওপর দিয়েই প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যার পানিতে তলিয়ে আছে চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের ঘর-বাড়ি।

দীর্ঘ সময় ধরে পানিবন্দি থাকায় শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পনির চরম সংকটে পড়েছেন দুর্গতরা। চারণভূমি তলিয়ে থাকায় ও গো-খাদ্য নষ্ট হয়ে যাওয়ায় নিজেদের খাবারের পাশাপাশি গবাদি পশু নিয়েও বিপাকে পড়েছেন তারা।

এবারের বন্যায় জেলার ৫০ ইউনিয়নের ২৮৫ গ্রাম প্লাবিত হয়। সরকারী হিসেবে এতে পানিবন্দি হয়ে পড়ে সোয়া লাখ মানুষ।

বন্যা কবলিত এলাকায় ২৯৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ৩০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এখনও বন্ধ রয়েছে পাঠদান। 

কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুর রশিদ জানান, জেলায় ১৪ হাজার হেক্টর জমির টিনা, কাউন, পটল, মরিচসহ বিভিন্ন সবজি ক্ষেত ও পাট এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে বন্যার পানিতে নিমজ্জিত থাকায় তা নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। 

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা কালিপদ রায় জানান, জেলায় এক হাজার ১৫৭টি মাছের খামার ভেসে যায়। এতে এক হাজার ১৬৩ জন মাছ চাষি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এই ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৮০ কোটি টাকা।

কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম জানান, বন্যা কবলিতদের জন্য ৫৩৮ মেট্রিক টন চাল, ৩৬ লাখ ৫০ হাজার নগদ টাকা, এক হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার, ১৮ লাখ ৯৫ হাজার টাকার শিশু খাদ্য ও ১৭ লাখ ৭৫ হাজার টাকা গো-খাদ্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে, যা বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।


একাত্তর/জো