রংপুর অঞ্চলে এবার কোরবানীর চামড়ায় সরকারী দাম নির্ধারণের পরেও সস্তা দামে কেনাবেচা হয়েছে পশুর চামড়ার। সিন্ডিকেটের কারণে ন্যায্য দাম পাননি সাধারণ মানুষ।
প্রতিবছরের চেয়ে এবার ঈদুল আজহায় এই অঞ্চলে কোরবানি দেয়ার পশু মজুদ ছিলো ১৮ লাখেরও বেশি। আর ঈদের দিন থেকে শুরু করে পরবর্তী এক সপ্তাহের মধ্যে ১২ থেকে ১৪ লাখ চামড়া খুচরা ব্যবসায়ীদের থেকে ব্যাপারীদের হাতে বিক্রি হলেও এবার চলতি মৌসুমে এক লাখ চামড়াও বিক্রি হয়নি আর সংগ্রহ হয়েছে মাত্র ৮ লাখ চামড়া।
চামড়া ব্যবসায়ী হাফিজুর রহমান বলছেন, রংপুরের তারাগঞ্জের হাড়িয়ালকুঠি থেকে চামড়া হাটে এসেছিলেন চামড়া বেঁচতে। ২০০টি চামড়ার মধ্যে লোকসানে বেঁচতে পেরেছেন মাত্র ১৪০টি। আর লবণের দাম বৃদ্ধি এবং লেবার খরচ দিয়ে তার লোকসান এখন ৩০ হাজার টাকা।
এ হাটে তার মতো দেড় হাজার খুচরা ব্যবসায়ীরও একই অবস্থা। চিন্তায় কপালে ভাঁজ। শেষ পর্যন্ত চামড়া বেঁচতে পারবেন কিনা জানেন না তারা।
ব্যবসায়ী মাহমুদ হাসান বলছেন, ট্যানারী মালিকদের থেকে তাদের পাওনা টাকার পরিমাণ প্রায় দুশো থেকে আড়াইশো” কোটি টাকা। আর হাট ইজারাদাররা বলছেন, এ হাটে ৭০ থেকে ৮০ হাজার চামড়া উঠলেও বিক্রি হয়েছে মাত্র সাত হাজার টাকায়।
ব্যবসায়ী নেতারা আরও জানান, সিন্ডিকেট করে দাম কমার কারণেই ঈদের চামড়ার ৪০ শতাংশই সীমান্ত চোরাচালানিদের দখলে চলে গেছে। আর তাই সরকারি ভাবে এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ না নিলে চামড়া শিল্প দিন-দিন ধবংস হয়ে যাবে।
একাত্তর/ এনএ