নারায়ণগঞ্জে দৃশ্যমান তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু

সম্পূর্ণ দৃশ্যমান হয়েছে নারায়ণগঞ্জের তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু। ইতোমধ্যেই এর নামকরণের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। এ সেতুটি চালু হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সঙ্গে পদ্মা সেতুর দূরত্ব কমবে ৯ কিলোমিটার।

এছাড়া নারায়ণগঞ্জ শহরের সঙ্গে মেলবন্ধন তৈরি হবে বন্দর উপজেলার। বেগবান হবে এ অঞ্চলের আর্থ সামাজিক উন্নয়নও।

নারায়ণগঞ্জ শহর থেকে বন্দর উপজেলাকে আলাদা করে রেখেছে শীতলক্ষ্যা নদী। প্রতিদিন নৌকা ও ট্রলারে ভোগান্তি নিয়ে নদী পার হন এ অঞ্চলের লক্ষাধিক মানুষ। তাই একটি সেতুর প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করে ২০১৫ সালের ১৪ই ফেব্রুয়ারি নির্মাণ কাজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এই প্রকল্পে অর্থায়নকারী সংস্থা সৌদি ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্ট (এসএফডি) এবং বাংলাদেশ সরকার।

বন্দর মদনগঞ্জ থেকে শহরের সৈয়দপুর প্রান্তে নির্মিত হয়েছে এ তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু, যার নামকরণ করা হয়েছে বীর মুক্তিযোদ্ধা নাসিম ওসমান সেতু। নদীতে পাঁচটিসহ মোট ৩৮টি খুঁটির উপর দাঁড়িয়ে গেছে শীতলক্ষ্যা সেতু। এখন চলছে সংযোগ সড়কের কাজ।

৬ লেন বিশিষ্ট এই সেতুর ৪ লেনে দ্রুত গতির যানবাহন এবং ২ লেনে চলবে রিকশা, সাইকেল ও ভ্যানসহ স্বল্পগতির যানবাহন। সেতুর দুই পাশের রেলিং ঘেঁষে রয়েছে ফুটপাত। তাই পায়ে হেঁটে পাড়ি দেওয়া যাবে সেতুটি।

দীর্ঘ দিনের লালিত স্বপ্ন বাস্তবায়িত হওয়ায় খুশি এলাকার মানুষ। তাদের আশা সেতুটি নির্মাণের ফলে এ অঞ্চলে শিল্পায়নসহ বেগবান হবে আর্থ সামাজিক উন্নয়নের অগ্রগতি।

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও নাসিম ওসমানের স্ত্রী পারভীন ওসমান জানান, নারায়ণগঞ্জ ৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য প্রয়াত নাসিম ওসমানের শেষ নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল শীতলক্ষ্যা সেতু। নারায়ণগঞ্জবাসীর বহুদিনের প্রত্যাশা পূরণ হলো সেতু বাস্তবায়ন হওয়ায়। নাসিম ওসমানের নামে সেতুটির নামকরণ করায় কৃতজ্ঞ পরিবার।

তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু প্রকল্পটি পাস করার সময় এর ব্যয় ধরা হয় ৩৭৭ কোটি টাকা। ২০১৩ সালের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিলো। বর্তমানে ২০২৩ সালের জুনের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। সময় মতো প্রকল্পটি কাজ শেষ না করায় দীর্ঘ সূত্রতায় এর নির্মাণ ব্যায় দাঁড়িয়েছে ৬০৮ কোটি টাকা।


তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতুর প্রকল্প পরিচালক সোয়েব আহমেদ জানান, তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতুর প্রকল্প পরিচালক শোয়েব আহমেদ জানিয়েছেন এখন সেতুর ৯২ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। মূল সেতুর কাজ শেষ। ফুটপাত ও লাইটিং এর কাজ চলছে। আশা করা যাচ্ছে ডিসেম্বরের মধ্যেই উন্মুক্ত করে দেয়া যাবে সেতুটি।

জানা যায়, সেতুটি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের মদনপুর থেকে এই সেতু মুন্সীগঞ্জের মুক্তারপুর হয়ে শ্রীনগরের ছনবাড়ি পয়েন্টে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ককে যুক্ত করবে।

আরও পড়ুন: সেতুর ওপর রেললাইনে ঝুলছিল একটি হাত!

মদনপুর থেকে যাত্রাবাড়ী হয়ে মাওয়ার পদ্মা সেতুর দূরত্ব ৫২ কিলোমিটার। আর নির্মাণাধীন সেতু দিয়ে দূরত্ব হবে ৪৩ কিলোমিটার। একই সঙ্গে সিলেট সড়কও সুফল পাবে এই সেতুর বাইপাস সড়কটির।

সেতুতে চলাচল শুরু হলে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর, সাইনবোর্ডসহ কমবে রাজধানীর যানজট। সহজ হবে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন।


একাত্তর/আরএ