নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে বিয়ের দাবীতে বাড়িতে অবস্থান নেওয়া স্বামী পরিত্যক্তা রোকসানা বেগম নামে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে পরকীয়া প্রেমিক ও তার স্বজনদের বিরুদ্ধে।
সোমবার (১৮ জুলাই) দুপুরে সোনারগাঁও উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নের বাইসটেকি গ্রামের পরকীয় প্রেমিক মনিরের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রোকসানা ওই গ্রামের মনু মিয়ার মেয়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে তালতলা ফাঁড়ি পুলিশের উপ-পরিদর্শক রাজু আহম্মেদ জানান, স্বামী পরিত্যক্তা রোকসানার সঙ্গে মনির হোসেনের দীর্ঘদিন ধরে পরকিয়া প্রেমের সম্পর্ক। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন স্থানে একাধিকবার উভয়ের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক হয়। বিষয়টি উভয়ের পরিবারসহ এলাকার লোকজনের জানা।
সোমবার দুপুরে প্রেমিক মনিরের বাড়িতে বিয়ের দাবীতে অবস্থান নেয় রোকসানা। এ সময় মনিরের বাড়ির লোকজন তাকে বাড়ি থেকে একাধিক বার টেনে-হেঁচড়ে বের করে দেয়।
পরে মনিরের স্ত্রী সহ ৭-৮ জন মিলে লোহার পাইপ ও রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুত্বর আহত করে রোকসানা বেগমকে।
সেখান থেকে কয়েকজন তাকে উদ্ধার করে বিকেলে ঢামেক হাসপাতালে জরুরী বিভাগে নিয়ে আসেন। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করলে উদ্ধারকারীরা পালিয়ে যান।
এদিকে নিহতের চাচাতো ভাই শহিদুল্লাহ খোঁজ নিতে নিতে ঢামেকের জরুরী বিভাগে এসে সন্ধ্যায় রোকসানা কে সনাক্ত করেন।
মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মোঃ বাচ্চু মিয়া।
ঘটনার পর থেকে ঐ বাড়ির জড়িতরা পালিয়ে গেছে বলে জানা যায় তাদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান চলছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরর প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তালতলা পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক এসআই রাজু আহামেদ।
নিহতের চাচাতো ভাই শহিদুল্লাহ বলেন, নিহত রোকসানার সাথে একই এলাকার মনিরের সাথে প্রায় ৪ বছর যাবত সম্পর্ক ছিলো। যা ঐ এলাকার মানুষের জানা।
তিনি বলেন, রোকসানকে বিয়ে করে বরণ করে নেয়ার কথা দিয়েছিল মনির। আজ সকালে রোকসানা ঐ বাসায় গিয়ে উঠলে ঐ বাড়ির লোকজন তাকে পিটিয়ে টেনে-হেঁচড়ে বাড়ির বাইরে ফেলে দেয়। পরে আমরা স্থানীয় তালতলা ফাঁড়ির পুলিশের কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ করি। পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় দুপুরে।
পাচ বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে রোকসানা ছিল তৃতীয়।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত জানা যায় মঙ্গলবার তার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হবে।
একাত্তর/এআর