টাকা চুরির অপবাদ দিয়ে এক শিশুর মাথা ন্যাড়া করে রাতভর শিকলে বেঁধে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (২৩ জুলাই) সন্ধ্যায় নেত্রকোনার মদন উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের রুদ্রশ্রী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, নির্যাতনের শিকার মা হারা শিশু রানা মিয়া (১১) ওই গ্রামের হতদরিদ্র জাহাঙ্গীর মিয়ার ছেলে।
নির্যতনকারী রুদ্রশ্রী গ্রামের কাজল মীরের ছেলে সুমন মীর (১৮)। রানাকে মারধোর ও নির্যাতনের পর তার মাথা ন্যাড়া করে নিজ বাড়ির উঠানে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে রাতভর বেঁধে রাখেন তিনি। পরে স্থানীয় ইউপি সদস্যের হস্তক্ষেপে রোববার (২৪ জুলাই) সকালে মুক্তি পায় শিশুটি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকালে নিজ ঘরে ১১ হাজার ৫০০ টাকা তার বাক্সে রাখেন সুমন। এসময় প্রতিবেশী শিশু রানাসহ তার পরিবারের লোকজন উপস্থিত ছিল। বিকেলে হাওর থেকে ফিরে এসে বাক্সে রাখা টাকা না পেয়ে শিশু রানাকে সন্দেহ করেন সুমন। পরে সন্ধ্যায় বাড়ির সামনে রানাকে পেয়ে সুমন তার ঘরে নিয়ে আটকে রাখে রানাকে।
আরও পড়ুন: ফেসবুকে ভুয়া পেইজ খুলে প্রতারণা, গ্রেপ্তার এক
নির্যাতন শেষে রানার মাথা ন্যাড়া করে বাড়ির সামনের বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে রাতভর তাকে শেকলে বেঁধে রাখে সুমন। সকালে ঘটনা জানতে পেরে স্থানীয় ইউপি সদস্য সুলতান উদ্দিন খুটই থেকে শিকল খুলে রানাকে মুক্ত করেন।
নির্যাতিত শিশু রানার বক্তব্য, আমি কোন টাকা চুরি করিনি। সন্ধ্যা থেকে সুমন তার ঘরে আটকে রেখে কয়েকজন মিলে তাকে মারপিট করে। সকালে তার মাথা ন্যাড়া করে বিদ্যুতের খুঁটির সাথে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখে।
নির্যাতনকারী সুমন মীর বলেন, শনিবার সকালে রানার সামনে ১১ হাজার ৫০০ টাকা গুনে আমার বাক্সে রাখি। আমার টাকা রানাই চুরি করেছে। এর জন্য তাকে শাস্তি দিয়েছি। কিন্তু এখনও আমার টাকা উদ্ধার করতে পারিনি।
সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য সুলতান উদ্দিন বলেন, লোকমুখে সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে দেখি শিশু রানাকে টাকা চুরির অপবাদে মাথা ন্যাড়া করে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে শিকল দিয়ে বেঁধে রেখেছে। আমি তার শিকল খুলে তাকে মুক্ত করি।
মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহম্মদ ফেরদৌস আলম জানান, খবর পেয়ে ওই এলাকায় পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
একাত্তর/জো